ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে
মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই
যেখানে হিমশিম খেতে হয় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে, সেখানে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন
অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এমন বাস্তবতায় মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে পূজার বাজার
হাতে পেয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের হিন্দু পরিবারের মুখে ফুটেছে
হাসি, কারও চোখে দেখা গেছে আনন্দাশ্রু।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
‘সহায়’-এর উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়। মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে পাঁচ ধরনের
প্রয়োজনীয় পণ্য পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা যায় স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ।
আয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে একটি করে টোকেনের মাধ্যমে পাঁচ টাকায় দেওয়া হয় পোলাওয়ের
চাল, চিনি, তেল, নারকেল ও একটি মুরগি। নামমাত্র মূল্যে এসব পণ্য পেয়ে অনেক পরিবারের জন্য পূজার
প্রস্তুতি হয়ে ওঠে কিছুটা সহজ। সামান্য এই উদ্যোগই তাদের কাছে উৎসবের আনন্দকে করেছে
আরও অর্থবহ।
বাজার হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত রমেশ বলেন, “পাঁচ টাকায় এতগুলো বাজার পাব, কখনো চিন্তা
করিনি। যারা এমন আয়োজন করেছেন, তাঁদের অনেক ধন্যবাদ। এই বাজার দিয়ে আমরা এবারের পূজার
আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারব।
রমেশের কথায় উঠে আসে সীমিত সামর্থ্যরে মানুষের জীবনের বাস্তবতা। যে উৎসবের বাজার অনেক
পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপের কারণ, সেই বাজারই যখন নামমাত্র মূল্যে হাতে আসে, তখন তা
শুধু প্রয়োজন মেটায় না, ফিরিয়ে দেয় উৎসব ঘিরে বেঁচে থাকার আনন্দও।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সহায় সংগঠনের উপদেষ্টা মো. কাজল রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো.
সাগর, সায়মুনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও অতিথিরা।
আয়োজনটি স্থানীয়ভাবে মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের
মতে, উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক কিংবা খাবারের আয়োজনে
সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই উৎসবের পূর্ণতা।
সামর্থ্যবানরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে আনন্দের এই বার্তা আরও বেশি মানুষের ঘরে
পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
সহায় সংগঠনের উপদেষ্টা মো. কাজল রহমান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজন সমাজের
সামর্থ্যবান মানুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা
সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার সামর্থ্যরে অভাবে পূজার কেনাকাটা করতে পারে না। অথচ
সামান্য উদ্যোগও তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। এ ধরনের মানবিক কাজে সবাইকে এগিয়ে
আসার আহ্বান জানাই।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাগর বলেন, “পাঁচ টাকার বিনিময়ে পাঁচটি পণ্য দেওয়ার এই
আয়োজন কেবল বাজার বিতরণ নয়, এটি অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও
মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা প্রতিবছর এ আয়োজন করে থাকি। আমাদের প্রত্যাশা, এমন
উদ্যোগ পাড়া-মহল্লা থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ুক। সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে
কোনো পরিবারকেই যেন উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকতে না হয়।
সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রতি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন
সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, সহযোগিতার পরিমাণ বড় না হলেও আন্তরিকতাই পারে একটি পরিবারের
মুখে হাসি ফোটাতে। সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে সহমর্মিতা,
সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ।
মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে পূজার বাজার তুলে দেওয়ার এই আয়োজন তাই শুধু সহায়তার গল্প নয়;
এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার এবং মানবিকতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার
এক অনন্য দৃষ্টান্ত।





















