রাজনৈতিক জীবনে ১১টি মামলা, চারবার কারাবরণ, গুলিবিদ্ধ হওয়া, কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ, এমনকি নিজ বাড়িতেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে মাসের পর মাস থাকতে হয়েছে আত্মগোপনে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে সরে দাঁড়াননি কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুজ্জামান পার্নেল।
তাঁর অনুসারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় চারবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাঁকে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। কারাগারে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
শুধু রাজপথেই নয়, নিজ বাড়িতেও একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পারিবারিক সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়েও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের।
ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া পার্নেলের সাংগঠনিক পথচলা দীর্ঘদিনের। তিনি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সহছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
এবার জেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় এসেছে তাঁর নাম। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, দলের দুঃসময়ে তাঁর ভূমিকা, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে মূল্যায়ন করা হোক।
জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুজ্জামান পার্নেল বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। দলের দুঃসময়ে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। কোনো পদ-পদবির আশায় রাজনীতি করিনি। অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে প্রত্যাশা করি।”
তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ ধারণ করে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান।
সব মিলিয়ে মামলা, কারাবাস, গুলিবিদ্ধ হওয়া, বাড়িতে হামলা ও আত্মগোপনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পার্নেলের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের মূল্যায়ন চাইছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে কে আসছেন, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা।




















