চুয়াডাঙ্গায় কারিগরদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গা

চুয়াডাঙ্গায় কারিগরদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গা
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : 
দরজায় কড়া নারছে শারদীয় দুর্গাপূজা। শরতের আগমনী বার্তায় জানান দিচ্ছে চুয়াডাঙ্গার পূজামণ্ডপগুলোতে। পূজাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন মন্দিরে চলছে সাজসজ্জা, প্রতিমা রংয়ের কাজ ও মন্দিররের প্যান্ডেল ডেকোরেশন কাজের ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ। এবার জেলায় এক যোগে ১১৬ টি মন্দিরে পুজার আনন্দে মাতবে সনাতন ধর্মাম্ববলম্বীরা। এবারো প্রতিটা মন্ডপে থাকবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন। একই ভাবে কঠোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশ আনসার বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। এতে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটবে না বলে প্রত্যাশা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিবছরের মতো এবারও জেলার বিভিন্ন মন্দিরে দুর্গা পূজার সাজসজ্জায় কিছুটা ভিন্নতা আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন মন্দিরের পুজার আয়োজকরা জানান, সদর উপজেলায় ৩৩ টি, আলমডাঙ্গায় ৩৯ টি, দামুড়হুদায় ২০ টি ও জীবননগর উপজেলায় ২৪ টি সহ মোট ১১৬ টি মন্দিরে এবার সারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। চলতি বছরের পূজায় রয়েছে তিথিগত বিশেষত্ব। সপ্তমী তিথি দুই দিন হওয়ায় মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছয় দিনজুড়ে চলবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং বিজয়া দশমীতে গমন হবে নৌকায়। প্রচলিত পঞ্জিকা মতে, দেবীর ঘোটকে আগমনকে ‘ছত্রভঙ্গ’ এবং নৌকায় গমনকে শস্য ও জলবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলা হয়েছে। আগামি ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল পর্ব। সপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও পূজা, অষ্টমীতে মহাষ্টমীর পূজা, অঞ্জলি ও সন্ধিপূজা এবং নবমীতে মহানবমীর পূজা ও হোম অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে পূজা সমাপনীর পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজার শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে চলছে প্রতিমার গায়ে  রংয়ের প্রলেপ। কারিগরদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ফুটে তোলা হচ্ছে দেবি দুর্গার ছায়া। এরপর ধীরে মিলানো হবে দেবিদুর্গাকে। একদিকে প্রতিমা ফুটে উঠছে, অপরদিকে মন্দিরের চারপাশ সাজানো হচ্ছে বিভিন্ন আলোর সাজসজ্জায়। মন্দিররের প্যান্ডেল ডেকোরেশনের কাজের ব্যস্ততাও বেড়েছে। একই ভাবে শহরের মালোপাড়া দুর্গা মন্দির, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ মাঠপাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দির, সত্য নারায়ণ মন্দির ও তালতলা দুর্গা মন্দিরে একই রকম প্রস্তুতি চলছে।
‎প্রতিমা নির্মাণের কারিগর উত্তম পাল বলেন, ‘প্রতিবছরই প্রতিমার মধ্যে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। মন্দির কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও চাহিদা অনুযায়ী এবারও কাজ করছি। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে আমরা আগেভাগেই কাজ শুরু করেছি।’
‎দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ অঞ্জন সাহা আবির বলেন, ‘প্রতিমা নির্মাণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরে পূজার আবহ তৈরি হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনাও বাড়ছে। মহাষষ্ঠী থেকে মূল পূজা শুরু হবে। পূজার সব আয়োজন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।’
‎সনাতন ধর্মাবলম্বি হারাধন চন্দ্র রায় বলেন, ‘পুজা সামনে রেখে পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়ছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। এর সঙ্গে সাউন্ড ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।’
‎এক নারী সনাতন ধর্মাবলম্বী সুমিতা দে বলেন, ‘পূজাকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তৈরি হয় পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনমেলার পরিবেশ। মাটির কাঠামোয় দেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে এখন সেই উৎসবের অপেক্ষায় জেলার পূজামণ্ডপগুলো।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা সারদীয় দূর্গাপুজা-২০২৬ উদযাপনের প্রধান সমন্বয়ক হেমন্তু কুমার সিংহ রায় বলেন, ‘দুর্গা পুজাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার মন্ডপ গুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মন্দিরে চলছে প্রতিমা রংয়ের কাজ। প্রতিটা মন্ডপে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। এ জন্য পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এই পুজাতে যেন সবাই সবার মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে। সেইসব কিছু সামনে রেখে এবার দুর্গা পুজা উদযাপন করা হবে।’
জেলা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার  বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল দিল্লি পুলিশ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল দিল্লি পুলিশ

চুয়াডাঙ্গায় কারিগরদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গা

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : 
দরজায় কড়া নারছে শারদীয় দুর্গাপূজা। শরতের আগমনী বার্তায় জানান দিচ্ছে চুয়াডাঙ্গার পূজামণ্ডপগুলোতে। পূজাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন মন্দিরে চলছে সাজসজ্জা, প্রতিমা রংয়ের কাজ ও মন্দিররের প্যান্ডেল ডেকোরেশন কাজের ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ। এবার জেলায় এক যোগে ১১৬ টি মন্দিরে পুজার আনন্দে মাতবে সনাতন ধর্মাম্ববলম্বীরা। এবারো প্রতিটা মন্ডপে থাকবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন। একই ভাবে কঠোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশ আনসার বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। এতে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটবে না বলে প্রত্যাশা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিবছরের মতো এবারও জেলার বিভিন্ন মন্দিরে দুর্গা পূজার সাজসজ্জায় কিছুটা ভিন্নতা আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন মন্দিরের পুজার আয়োজকরা জানান, সদর উপজেলায় ৩৩ টি, আলমডাঙ্গায় ৩৯ টি, দামুড়হুদায় ২০ টি ও জীবননগর উপজেলায় ২৪ টি সহ মোট ১১৬ টি মন্দিরে এবার সারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। চলতি বছরের পূজায় রয়েছে তিথিগত বিশেষত্ব। সপ্তমী তিথি দুই দিন হওয়ায় মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছয় দিনজুড়ে চলবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং বিজয়া দশমীতে গমন হবে নৌকায়। প্রচলিত পঞ্জিকা মতে, দেবীর ঘোটকে আগমনকে ‘ছত্রভঙ্গ’ এবং নৌকায় গমনকে শস্য ও জলবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলা হয়েছে। আগামি ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল পর্ব। সপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও পূজা, অষ্টমীতে মহাষ্টমীর পূজা, অঞ্জলি ও সন্ধিপূজা এবং নবমীতে মহানবমীর পূজা ও হোম অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে পূজা সমাপনীর পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজার শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে চলছে প্রতিমার গায়ে  রংয়ের প্রলেপ। কারিগরদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ফুটে তোলা হচ্ছে দেবি দুর্গার ছায়া। এরপর ধীরে মিলানো হবে দেবিদুর্গাকে। একদিকে প্রতিমা ফুটে উঠছে, অপরদিকে মন্দিরের চারপাশ সাজানো হচ্ছে বিভিন্ন আলোর সাজসজ্জায়। মন্দিররের প্যান্ডেল ডেকোরেশনের কাজের ব্যস্ততাও বেড়েছে। একই ভাবে শহরের মালোপাড়া দুর্গা মন্দির, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ মাঠপাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দির, সত্য নারায়ণ মন্দির ও তালতলা দুর্গা মন্দিরে একই রকম প্রস্তুতি চলছে।
‎প্রতিমা নির্মাণের কারিগর উত্তম পাল বলেন, ‘প্রতিবছরই প্রতিমার মধ্যে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। মন্দির কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও চাহিদা অনুযায়ী এবারও কাজ করছি। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে আমরা আগেভাগেই কাজ শুরু করেছি।’
‎দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ অঞ্জন সাহা আবির বলেন, ‘প্রতিমা নির্মাণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরে পূজার আবহ তৈরি হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনাও বাড়ছে। মহাষষ্ঠী থেকে মূল পূজা শুরু হবে। পূজার সব আয়োজন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।’
‎সনাতন ধর্মাবলম্বি হারাধন চন্দ্র রায় বলেন, ‘পুজা সামনে রেখে পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়ছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। এর সঙ্গে সাউন্ড ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।’
‎এক নারী সনাতন ধর্মাবলম্বী সুমিতা দে বলেন, ‘পূজাকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তৈরি হয় পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনমেলার পরিবেশ। মাটির কাঠামোয় দেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে এখন সেই উৎসবের অপেক্ষায় জেলার পূজামণ্ডপগুলো।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা সারদীয় দূর্গাপুজা-২০২৬ উদযাপনের প্রধান সমন্বয়ক হেমন্তু কুমার সিংহ রায় বলেন, ‘দুর্গা পুজাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার মন্ডপ গুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মন্দিরে চলছে প্রতিমা রংয়ের কাজ। প্রতিটা মন্ডপে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। এ জন্য পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এই পুজাতে যেন সবাই সবার মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে। সেইসব কিছু সামনে রেখে এবার দুর্গা পুজা উদযাপন করা হবে।’
জেলা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার  বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’
বিজ্ঞাপন