পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) বাস্তবায়িত স্মার্ট ইএসডিও ইকো ট্যুরিজম উপ-প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তেঁতুলিয়ার পরিবেশবান্ধব পর্যটন মডেল এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইএসডিও’র ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের আর্থিক সহযোগিতায় ‘সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন’ (স্মার্ট) প্রকল্পের আওতায় তেঁতুলিয়ায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পরিদর্শনকারী প্রতিনিধিদলে ছিলেন—বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ কেইসুকে ইয়াদোমি, সামাজিক উন্নয়ন ও জেন্ডার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সামিরা চৌধুরী, সিনিয়র
সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মো. শরীফুল ইসলাম এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞ শার্লিন হোসেন। এ ছাড়া পিকেএসএফের পক্ষ থেকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (CERD) ও স্মার্ট প্রকল্পের
সমন্বয়কারী এ. কে. এম. জহিরুল হক এবং উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রওশন হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইএসডিও’র মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন হোমস্টে সার্ভিস, হস্তশিল্প বিক্রয়কেন্দ্র, কটেজ টি উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট, ঘোড়ার গাড়ি, সাইক্লিং ও কায়াকিংসহ পর্যটনভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
এ সময় তাঁরা প্রকল্পের আওতাভুক্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন সেবাকে কীভাবে আকর্ষণীয় করা যায়—সেসব বিষয়ে প্রতিনিধিদল বিস্তারিত আলোচনা
করেন।
প্রকল্পের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অপচয় কমিয়ে একটি
পরিচ্ছন্ন পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি অনন্য উদাহরণ।
এ ধরনের কার্যক্রম কেবল টেকসই পর্যটনই নয়, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখছে।
ইএসডিও কর্তৃপক্ষ জানায়, স্মার্ট ইএসডিও ইকো ট্যুরিজম উপ-প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং তাঁদের
উৎপাদিত পণ্য ও সেবা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পৌঁছে দেওয়া।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের ফলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে এবং তেঁতুলিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বপরিমণ্ডলে আরও জোরালোভাবে পরিচিতি পাবে।




















