যাঁদের শিক্ষা আজও পথ দেখায়—শেখ সাদী

যাঁদের শিক্ষা আজও পথ দেখায়—শেখ সাদী

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা-সিটি পোস্ট

প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের সম্মান জানাতে বিশেষ এই দিনটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। যেহেতু শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, তাই শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর।
রাজনৈতিক পরিবারে বড় হওয়ায় যাপিত জীবনে নানা বৈরিতা পেরিয়ে পথ চলতে হয়েছে। সেই কঠিন পথের মধ্যেও পড়ালেখার জন্য ছুটতে হয়েছে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা স্কুল পর্যন্ত। পড়াশোনা করেছি নিজ শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি অনার্স কলেজে। পড়াশোনা করতে হয়েছে লালমাই ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও। পড়ার জন্য যত জায়গায় ছুটেছি, তাতে শিক্ষাগুরুর সংখ্যাটাও বেশ ভারী হয়েছে।
একজন শিক্ষকের কাছ থেকে আদর্শ ধারণ করতে পেরেছি, তো আরেকজনের কাছ থেকে শিখেছি আন্তরিকতা। কারও কাছ থেকে শিখেছি কৌশল, কেউ শিখিয়েছেন জীবনের বাস্তবতা। কেউ কেউ আবার ছিলেন পাঠ্যপুস্তকে আটকে থাকা কড়া শিক্ষক। সবার কাছ থেকে নেওয়া শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে নিজেকে গড়েছি। কতটুকু পেরেছি জানি না। তবে আমার এই পথচলায় শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম।


স্মৃতিতে বিভোর হয়ে মনে পড়ে বাড়ির পাশের মালেক মিয়া স্কুলে পড়ার সময়ের সেই সিরাজ স্যার, অন্নদার নুরুল হুদা স্যার, ইসমাইল স্যার, ঠাকুরগাঁওয়ের ওয়ারেস স্যার, রশিদ স্যার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনার্স কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কাশেম স্যার, লতিফা আপা, শিরিন আপা। লালমাই কলেজের কামাল মজুমদার স্যারসহ সবার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ,আমি ঋণী।

যদিও বাস্তবতা ও ব্যস্ততার কোলাহলে এখন আর তেমন কোনো শিক্ষকের সঙ্গেই যোগাযোগ নেই। অনেকে চলে গেছেন পরপারে। তাঁদের জন্য মন থেকে দোয়া করি। স্মৃতির মানসপটে প্রায়শই ভেসে ওঠে শিক্ষকদের সেই শাসন-আদর, ভয়ে পালিয়ে থাকা। এক জীবনে শিক্ষকদের অবদান বলে শেষ করার মতো নয়।
মা-বাবা আমাদের জীবন দেন, আর শিক্ষকরা শেখান কীভাবে সেই জীবনকে সার্থক করতে হয়। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীর ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও ভালোবাসা চিরস্মরণীয়।

যাপিত জীবনে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় আমারও সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় টিউশনি তো করেছি, তা ছাড়া বিজনেস ট্রেনিং সেন্টারের মূল ট্রেইনার হিসেবে দীর্ঘ বছর কাজ করেছি। আমার কাছ থেকে ট্রেনিং নেওয়া ব্যাচগুলোর শিক্ষার্থীদের ভক্তি-শ্রদ্ধা দেখে অনেকটা লজ্জা পেতাম। মনে হতো, আমার শিক্ষকদের কি আমরা পূর্ণ সম্মান দিতে পেরেছিলাম?

গ্লোবাল গার্ডিয়ান নেটওয়ার্কের প্রেজেন্টার হিসেবে অনেককে শিখিয়েছি, প্রাপ্য মূল্যায়নও পেয়েছি। তখন স্মরণ করেছি আমার সেই প্রিয় শিক্ষকদের, যাঁদের শিক্ষা ও আদর্শ জীবনের ক্ষণে ক্ষণে প্রয়োজন হয়েছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অন্তর্গত (DCCI) ডিসিসিআই ইন্টারন্যাশনাল নলেজ সেন্টারে গিয়েছিলাম ছাত্র হিসেবে, বের হয়েছি গেস্ট লেকচারার হয়ে। সেখানে সাত বছর ক্লাস নিয়েছি। পাশাপাশি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে মোটিভেশন ও সেলসের ওপর অনেক প্রশিক্ষণ করিয়েছি। ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, নাট্যমঞ্চ, শিশু একাডেমিসহ অনেক হলেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। লজ্জাবোধ করেছি যখন দেখেছি, অনেকে এক সপ্তাহ আগে টিকিট কেটেছেন; আবার অনেককে সুযোগটুকুও দিতে পারিনি। এই সবকিছু আজ স্মৃতি হয়ে আছে। এই সবকিছু সম্ভব হয়েছে আমাদের সেই শিক্ষকদের কারণে, যাঁরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। যদি সেই শিক্ষা না পেতাম, এই জায়গায় আসতে পারতাম না। যতটুকু যা পেরেছি, সেই অর্জনগুলোর পেছনে অন্যতম অবদান আমার শিক্ষকদের।

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে, যাঁরা অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখান—আমার সেই শিক্ষকদেরসহ সকল শিক্ষকদের প্রতি জানাই অতল শ্রদ্ধা।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
নোয়াখালীতে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

নোয়াখালীতে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

যাঁদের শিক্ষা আজও পথ দেখায়—শেখ সাদী

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের সম্মান জানাতে বিশেষ এই দিনটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। যেহেতু শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, তাই শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর।
রাজনৈতিক পরিবারে বড় হওয়ায় যাপিত জীবনে নানা বৈরিতা পেরিয়ে পথ চলতে হয়েছে। সেই কঠিন পথের মধ্যেও পড়ালেখার জন্য ছুটতে হয়েছে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা স্কুল পর্যন্ত। পড়াশোনা করেছি নিজ শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি অনার্স কলেজে। পড়াশোনা করতে হয়েছে লালমাই ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও। পড়ার জন্য যত জায়গায় ছুটেছি, তাতে শিক্ষাগুরুর সংখ্যাটাও বেশ ভারী হয়েছে।
একজন শিক্ষকের কাছ থেকে আদর্শ ধারণ করতে পেরেছি, তো আরেকজনের কাছ থেকে শিখেছি আন্তরিকতা। কারও কাছ থেকে শিখেছি কৌশল, কেউ শিখিয়েছেন জীবনের বাস্তবতা। কেউ কেউ আবার ছিলেন পাঠ্যপুস্তকে আটকে থাকা কড়া শিক্ষক। সবার কাছ থেকে নেওয়া শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে নিজেকে গড়েছি। কতটুকু পেরেছি জানি না। তবে আমার এই পথচলায় শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম।


স্মৃতিতে বিভোর হয়ে মনে পড়ে বাড়ির পাশের মালেক মিয়া স্কুলে পড়ার সময়ের সেই সিরাজ স্যার, অন্নদার নুরুল হুদা স্যার, ইসমাইল স্যার, ঠাকুরগাঁওয়ের ওয়ারেস স্যার, রশিদ স্যার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনার্স কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কাশেম স্যার, লতিফা আপা, শিরিন আপা। লালমাই কলেজের কামাল মজুমদার স্যারসহ সবার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ,আমি ঋণী।

যদিও বাস্তবতা ও ব্যস্ততার কোলাহলে এখন আর তেমন কোনো শিক্ষকের সঙ্গেই যোগাযোগ নেই। অনেকে চলে গেছেন পরপারে। তাঁদের জন্য মন থেকে দোয়া করি। স্মৃতির মানসপটে প্রায়শই ভেসে ওঠে শিক্ষকদের সেই শাসন-আদর, ভয়ে পালিয়ে থাকা। এক জীবনে শিক্ষকদের অবদান বলে শেষ করার মতো নয়।
মা-বাবা আমাদের জীবন দেন, আর শিক্ষকরা শেখান কীভাবে সেই জীবনকে সার্থক করতে হয়। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীর ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও ভালোবাসা চিরস্মরণীয়।

যাপিত জীবনে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় আমারও সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় টিউশনি তো করেছি, তা ছাড়া বিজনেস ট্রেনিং সেন্টারের মূল ট্রেইনার হিসেবে দীর্ঘ বছর কাজ করেছি। আমার কাছ থেকে ট্রেনিং নেওয়া ব্যাচগুলোর শিক্ষার্থীদের ভক্তি-শ্রদ্ধা দেখে অনেকটা লজ্জা পেতাম। মনে হতো, আমার শিক্ষকদের কি আমরা পূর্ণ সম্মান দিতে পেরেছিলাম?

গ্লোবাল গার্ডিয়ান নেটওয়ার্কের প্রেজেন্টার হিসেবে অনেককে শিখিয়েছি, প্রাপ্য মূল্যায়নও পেয়েছি। তখন স্মরণ করেছি আমার সেই প্রিয় শিক্ষকদের, যাঁদের শিক্ষা ও আদর্শ জীবনের ক্ষণে ক্ষণে প্রয়োজন হয়েছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অন্তর্গত (DCCI) ডিসিসিআই ইন্টারন্যাশনাল নলেজ সেন্টারে গিয়েছিলাম ছাত্র হিসেবে, বের হয়েছি গেস্ট লেকচারার হয়ে। সেখানে সাত বছর ক্লাস নিয়েছি। পাশাপাশি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে মোটিভেশন ও সেলসের ওপর অনেক প্রশিক্ষণ করিয়েছি। ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, নাট্যমঞ্চ, শিশু একাডেমিসহ অনেক হলেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। লজ্জাবোধ করেছি যখন দেখেছি, অনেকে এক সপ্তাহ আগে টিকিট কেটেছেন; আবার অনেককে সুযোগটুকুও দিতে পারিনি। এই সবকিছু আজ স্মৃতি হয়ে আছে। এই সবকিছু সম্ভব হয়েছে আমাদের সেই শিক্ষকদের কারণে, যাঁরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। যদি সেই শিক্ষা না পেতাম, এই জায়গায় আসতে পারতাম না। যতটুকু যা পেরেছি, সেই অর্জনগুলোর পেছনে অন্যতম অবদান আমার শিক্ষকদের।

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে, যাঁরা অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখান—আমার সেই শিক্ষকদেরসহ সকল শিক্ষকদের প্রতি জানাই অতল শ্রদ্ধা।