ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে এনইসির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ২৯টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক অংশ নেন।
সভায় এনইসির প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র কিছু সংশোধনীসহ অনুমোদন করেন উপস্থিত সম্পাদকরা। শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সম্পাদকদের ঐক্য এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মতামত তুলে ধরা হয়।
সভায় এনইসির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সংগঠনটিকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে আমরা আরও বিস্তৃত করতে চাই। সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সম্পাদকরা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রথম সভাতেই গণতান্ত্রিকভাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে।
গত ১৭ বছরের সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়েও সভায় সমালোচনা করেন মাহমুদুর রহমান। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। এখন সাংবাদিক সমাজের আত্মসমালোচনার সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সম্পাদকদের একটি অংশের ভূমিকা কীভাবে সরকারকে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের ‘শিরদাঁড়া সোজা করে’ দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার নামে গণমাধ্যমে যা হয়েছে, তা হতাশাজনক। সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সেখান থেকে উত্তরণের চেষ্টা করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশংসার পরিবর্তে সত্যিকার অর্থে প্রশ্ন করার ভূমিকা পালন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সাংবাদিকতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদানের কথা তুলে ধরে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘কাজী নজরুল ইসলাম পদক’ চালুর প্রস্তাব দেন আব্দুল হাই শিকদার। সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য এ পদক দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর বলেন, গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতাকে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন সুবিধা ও প্রলোভনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে কলুষিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এনইসিকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ওয়াদা সম্পাদক ও নবনির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সম্পাদকদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিল। এনইসিকে যেন পুরো বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শফিক রেহমান বলেন, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্পাদকদের এনইসির প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য দেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, খবর সংযোগ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভোরের ডাক সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, জনতা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন এবং দ্য বাংলাদেশ পোস্ট সম্পাদক সদরুল হাসানসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা।
সভায় ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, যশোর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদকরাও অংশ নেন।

























