অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট, ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে উত্তাল দেশ

অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট, ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে উত্তাল দেশ

ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসন এবং গৃহবন্দি করার খবর ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত একটি ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে জানা গেছে, উয়েনো ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পেনিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।

ব্যাংক বন্ধ, বিপাকে ২৯ লাখ গ্রাহক

অভিযোগ অনুযায়ী, পেনিয়া প্রশাসনের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার পর উয়েনো ব্যাংকের কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। কিন্তু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ব্যাংকটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলে প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়।

এই সংখ্যা দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজেদের জমানো অর্থ তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণেও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে।

ব্যাংকিং সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

পেনিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পেনিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তার গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি শেষ হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন নেতা হিসেবে শপথ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পেনিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ব্যাংকে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগের অভিযোগ

বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েনো ব্যাংকে সরকারি ও পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৮০ কোটি থেকে ৮৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকটির মূল প্রতিষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট পেনিয়ারও প্রায় ১০ লাখ ডলারের শেয়ার ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকটির আর্থিক সংকট প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাবে খুচরা বিক্রি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।

বিরোধী সিনেটররা এই ঘটনাকে প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রাজনৈতিক সংকটে প্যারাগুয়ে

ব্যাংক কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে পেনিয়া তার নিজ রাজনৈতিক দলের সমর্থনও হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে তার আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়ালেও তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়।

শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে সাধারণ আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পেনিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এবং অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

জনপ্রিয়
তাহিরপুরে আমদানি কারক গ্ৰুপের নির্বাচন কার্যকারী সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন সারোয়ার আহমেদ সবুজ

তাহিরপুরে আমদানি কারক গ্ৰুপের নির্বাচন কার্যকারী সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন সারোয়ার আহমেদ সবুজ

অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট, ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে উত্তাল দেশ

আপডেট সময় : ১২:১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসন এবং গৃহবন্দি করার খবর ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত একটি ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে জানা গেছে, উয়েনো ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পেনিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।

ব্যাংক বন্ধ, বিপাকে ২৯ লাখ গ্রাহক

অভিযোগ অনুযায়ী, পেনিয়া প্রশাসনের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার পর উয়েনো ব্যাংকের কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। কিন্তু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ব্যাংকটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলে প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়।

এই সংখ্যা দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজেদের জমানো অর্থ তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণেও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে।

ব্যাংকিং সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

পেনিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পেনিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তার গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি শেষ হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন নেতা হিসেবে শপথ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পেনিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ব্যাংকে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগের অভিযোগ

বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েনো ব্যাংকে সরকারি ও পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৮০ কোটি থেকে ৮৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকটির মূল প্রতিষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট পেনিয়ারও প্রায় ১০ লাখ ডলারের শেয়ার ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকটির আর্থিক সংকট প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাবে খুচরা বিক্রি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।

বিরোধী সিনেটররা এই ঘটনাকে প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রাজনৈতিক সংকটে প্যারাগুয়ে

ব্যাংক কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে পেনিয়া তার নিজ রাজনৈতিক দলের সমর্থনও হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে তার আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়ালেও তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়।

শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে সাধারণ আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পেনিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এবং অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।