৮ বছরের সংসার গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরি, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

৮ বছরের সংসার গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরি, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

আনোয়ারুল ইসলাম রনি,রংপুর :

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিয়ের আট বছর পরও বৈবাহিক তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে ওই নারীকে অবিবাহিত উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত তরুণী মোছা. আফছানা মিমি উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের লহনী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে। তাঁর স্বামী একই ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের অবিবাহিত হওয়ার শর্ত থাকলেও নিজের বিয়ের তথ্য গোপন করে সৈনিক পদে আবেদন করেন আফছানা মিমি।

অভিযোগ রয়েছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এক লাখ টাকার বিনিময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে অবিবাহিত উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন। বর্তমানে আফছানা মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে তরুণীর স্বামী মো. খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। এসএসসি পাসের পর স্ত্রীকে গাজীপুরের হাতীমারা কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করান তিনি। এরপর স্ত্রী আফছানা মিমি তাঁর অবাধ্য হয়ে চলাফেরা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন খায়রুল। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও দাম্পত্য সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ২০২৩ সালে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন।

বিজ্ঞাপন

খায়রুলের দাবি, গত তিন বছরে একাধিকবার স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে বিচার-সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এর মধ্যেই তাঁকে না জানিয়ে গোপনে সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগ দেন তাঁর স্ত্রী। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলে জানান খায়রুল।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত তরুণীর মা রুপালী বেগম বলেন, মেয়ের বয়স কম থাকতেই খায়রুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খায়রুল তাঁর মেয়েকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য আবেদন করার পর তাঁর মেয়ের চাকরি হয়। বর্তমানে মেয়ে সিরাজগঞ্জে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। চাকরির বিষয়টি তাঁরা কাউকে জানাননি, এমনকি বাড়ির আশপাশের লোকজনও এ বিষয়ে জানেন না।

পুলিশ ভেরিফিকেশনে এক লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রুপালী বেগম বলেন, তাঁরা এত টাকা দেননি। এটি মিথ্যা অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শুধু চার হাজার টাকা দিয়েছেন। খায়রুলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হলেও কোনো কাবিননামা হয়নি। তাই এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। বিয়ের বিষয়টি কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান রুপালী বেগম।

তবে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করলেও তাঁদের বিয়ের প্রমাণ হিসেবে বিয়ের কাগজপত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ফলে বিয়ের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত আফছানা মিমি বর্তমানে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর সরাসরি বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে বিবাহিত নারীকে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ডিএসবির সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শকের (এসআই) পরিচয় জানতে চাইলে রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি গোপনীয় বিষয়। এ কারণে ভেরিফিকেশন করা কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশের সুযোগ নেই। তিনি কয়েক দিন আগেই ডিএসবির অতিরিক্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়
কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অব্যাহতির নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অব্যাহতির নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

৮ বছরের সংসার গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরি, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আনোয়ারুল ইসলাম রনি,রংপুর :

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিয়ের আট বছর পরও বৈবাহিক তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে ওই নারীকে অবিবাহিত উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত তরুণী মোছা. আফছানা মিমি উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের লহনী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে। তাঁর স্বামী একই ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের অবিবাহিত হওয়ার শর্ত থাকলেও নিজের বিয়ের তথ্য গোপন করে সৈনিক পদে আবেদন করেন আফছানা মিমি।

অভিযোগ রয়েছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এক লাখ টাকার বিনিময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে অবিবাহিত উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন। বর্তমানে আফছানা মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে তরুণীর স্বামী মো. খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। এসএসসি পাসের পর স্ত্রীকে গাজীপুরের হাতীমারা কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করান তিনি। এরপর স্ত্রী আফছানা মিমি তাঁর অবাধ্য হয়ে চলাফেরা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন খায়রুল। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও দাম্পত্য সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ২০২৩ সালে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন।

বিজ্ঞাপন

খায়রুলের দাবি, গত তিন বছরে একাধিকবার স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে বিচার-সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এর মধ্যেই তাঁকে না জানিয়ে গোপনে সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগ দেন তাঁর স্ত্রী। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলে জানান খায়রুল।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত তরুণীর মা রুপালী বেগম বলেন, মেয়ের বয়স কম থাকতেই খায়রুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খায়রুল তাঁর মেয়েকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য আবেদন করার পর তাঁর মেয়ের চাকরি হয়। বর্তমানে মেয়ে সিরাজগঞ্জে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। চাকরির বিষয়টি তাঁরা কাউকে জানাননি, এমনকি বাড়ির আশপাশের লোকজনও এ বিষয়ে জানেন না।

পুলিশ ভেরিফিকেশনে এক লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রুপালী বেগম বলেন, তাঁরা এত টাকা দেননি। এটি মিথ্যা অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শুধু চার হাজার টাকা দিয়েছেন। খায়রুলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হলেও কোনো কাবিননামা হয়নি। তাই এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। বিয়ের বিষয়টি কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান রুপালী বেগম।

তবে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করলেও তাঁদের বিয়ের প্রমাণ হিসেবে বিয়ের কাগজপত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ফলে বিয়ের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত আফছানা মিমি বর্তমানে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর সরাসরি বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে বিবাহিত নারীকে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ডিএসবির সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শকের (এসআই) পরিচয় জানতে চাইলে রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি গোপনীয় বিষয়। এ কারণে ভেরিফিকেশন করা কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশের সুযোগ নেই। তিনি কয়েক দিন আগেই ডিএসবির অতিরিক্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।