উল্লাপাড়ায় আগরপুরে পানিতে তলিয়ে শত শত বিঘা জমি, পুকুর খনন বন্ধে রাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এসকেভেটর

উল্লাপাড়ায় আগরপুরে পানিতে তলিয়ে শত শত বিঘা জমি,  পুকুর খনন বন্ধে রাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এসকেভেটর

সাহারুল হক সাচ্চু. উল্লাপাড়া ( সিরাজগঞ্জ ):

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আগরপুরের তিনটি মাঠের শত শত বিঘা জমি এখন পানিতে তলিয়ে আছে। এলাকাবাসিরা বলছেন পুকুর খননে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বছর সাতেক হলো এমন জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি আর ফসলি জমি নেই। অথচ আগে এসব জমিতে বছরে একাধিক ফসলের আবাদ হতো। এদিকে আগরপুরে গতকাল শুক্রবার দিন পেরিয়ে রাতে পুকুর খনন বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রামবাসিরা। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগরপুর গ্রামের তিনটি আবাদি মাঠের শত শত বিঘা জমিতে এক সময় সরিষা, আমন ধান, বোরো ধান ফসলের আবাদ হতো। এলাকার আবাদি মাঠগুলোর পানি একটি নালা খাল দিয়ে বের হয়ে যেতো বলে জানা গেছে। বছর সাতেক আগে সে খাল ঘিরে বহু জমি নিয়ে পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর পর কম সময়ের মধ্যে আরো কয়েকটি পুকুর খনন করা হয়। এতে পানি বের হতে না পারায় আগরপুর পূর্ব চড়া, দক্ষিণ চড়া, পশ্চিম চড়ার শত শত বিঘা আবাদি জমি তলিয়ে আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে আগরপুর পাকা সড়কের দুধারের শত শত বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে। কবরস্থানের কাছাকাছি , প্রাইমারি স্কুলের পিছনের খেলার মাঠে পানি জমে আছে। গ্রামের পাকা সড়ক পেরিয়ে কাচা সড়ক পথের দক্ষিণের মাঠের জমিগুলো পানিতে ডুবে আছে। আগরপুর গ্রামবাসিরা বলেন তিনটি মাঠের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে। আগরপুর গ্রামের মো. শামছুল হক বলেন তার নিজের প্রায় আট বিঘা জমিতে এখন আর ফসলের আবাদ করা যাচ্ছে না। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কবলে আছে। একই আগরপুর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম, শাহ আলম, হাবিবুর রহমান, আঃ রহিম বলেন পুকুর খননে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধে আবাদি মাঠের তাদের জমিগুলো বছরের পর বছর তলিয়ে আছে। গৃহবধু মোমেনা খাতুন ও হামিদা বেগম বলেন তাদের বিঘা চারেক করে আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে আছে। এক সময় সে সব জমিতে বোরো ধান ও অন্যান্য ফসলের আবাদ করা হতো। এদিকে গতকাল শুক্রবার দিন পেরিয়ে রাত এগারোটার দিকে আগরপুরে নতুন একটি পুকুর খননে এসকেভেটর ( ভেকু) মেশিন আনা কালে পথ থেকে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নওজেস আলী নায়েব এর উপস্থিতিতে গ্রামবাসিরা তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নওজেস আলী নায়েব বলেন তিনি খবর পেয়ে আগরপুরে গিয়ে দেখেন গ্রামের লোকজন পুকুর খনন বন্ধের কথা বলছেন। গ্রামবাসিরা আর পুকুর খনন করতে দেবেন না। তিনি গ্রামবাসিদেরকে সাথে নিয়ে যারা পুকুর খননে এসকেভেটর মেশিন আনছিলেন তাদের সাথে কথা বলে তা ( এসকেভেটর মেশিন) পথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
উল্লাপাড়ায় আগরপুরে পানিতে তলিয়ে শত শত বিঘা জমি,  পুকুর খনন বন্ধে রাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এসকেভেটর

উল্লাপাড়ায় আগরপুরে পানিতে তলিয়ে শত শত বিঘা জমি, পুকুর খনন বন্ধে রাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এসকেভেটর

উল্লাপাড়ায় আগরপুরে পানিতে তলিয়ে শত শত বিঘা জমি, পুকুর খনন বন্ধে রাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এসকেভেটর

আপডেট সময় : ১০:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সাহারুল হক সাচ্চু. উল্লাপাড়া ( সিরাজগঞ্জ ):

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আগরপুরের তিনটি মাঠের শত শত বিঘা জমি এখন পানিতে তলিয়ে আছে। এলাকাবাসিরা বলছেন পুকুর খননে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বছর সাতেক হলো এমন জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি আর ফসলি জমি নেই। অথচ আগে এসব জমিতে বছরে একাধিক ফসলের আবাদ হতো। এদিকে আগরপুরে গতকাল শুক্রবার দিন পেরিয়ে রাতে পুকুর খনন বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রামবাসিরা। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগরপুর গ্রামের তিনটি আবাদি মাঠের শত শত বিঘা জমিতে এক সময় সরিষা, আমন ধান, বোরো ধান ফসলের আবাদ হতো। এলাকার আবাদি মাঠগুলোর পানি একটি নালা খাল দিয়ে বের হয়ে যেতো বলে জানা গেছে। বছর সাতেক আগে সে খাল ঘিরে বহু জমি নিয়ে পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর পর কম সময়ের মধ্যে আরো কয়েকটি পুকুর খনন করা হয়। এতে পানি বের হতে না পারায় আগরপুর পূর্ব চড়া, দক্ষিণ চড়া, পশ্চিম চড়ার শত শত বিঘা আবাদি জমি তলিয়ে আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে আগরপুর পাকা সড়কের দুধারের শত শত বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে। কবরস্থানের কাছাকাছি , প্রাইমারি স্কুলের পিছনের খেলার মাঠে পানি জমে আছে। গ্রামের পাকা সড়ক পেরিয়ে কাচা সড়ক পথের দক্ষিণের মাঠের জমিগুলো পানিতে ডুবে আছে। আগরপুর গ্রামবাসিরা বলেন তিনটি মাঠের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে। আগরপুর গ্রামের মো. শামছুল হক বলেন তার নিজের প্রায় আট বিঘা জমিতে এখন আর ফসলের আবাদ করা যাচ্ছে না। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কবলে আছে। একই আগরপুর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম, শাহ আলম, হাবিবুর রহমান, আঃ রহিম বলেন পুকুর খননে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধে আবাদি মাঠের তাদের জমিগুলো বছরের পর বছর তলিয়ে আছে। গৃহবধু মোমেনা খাতুন ও হামিদা বেগম বলেন তাদের বিঘা চারেক করে আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে আছে। এক সময় সে সব জমিতে বোরো ধান ও অন্যান্য ফসলের আবাদ করা হতো। এদিকে গতকাল শুক্রবার দিন পেরিয়ে রাত এগারোটার দিকে আগরপুরে নতুন একটি পুকুর খননে এসকেভেটর ( ভেকু) মেশিন আনা কালে পথ থেকে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নওজেস আলী নায়েব এর উপস্থিতিতে গ্রামবাসিরা তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নওজেস আলী নায়েব বলেন তিনি খবর পেয়ে আগরপুরে গিয়ে দেখেন গ্রামের লোকজন পুকুর খনন বন্ধের কথা বলছেন। গ্রামবাসিরা আর পুকুর খনন করতে দেবেন না। তিনি গ্রামবাসিদেরকে সাথে নিয়ে যারা পুকুর খননে এসকেভেটর মেশিন আনছিলেন তাদের সাথে কথা বলে তা ( এসকেভেটর মেশিন) পথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।