কুয়াশায় মোড়া ঢাকার ভোরে তখনো কোনো ট্রাম্পেট বাজেনি, শুধু বুলেটের শব্দে কেটেছিল রাতের শেষ ঘুম। শহর তখন এক বিবর্ণ ক্যানভাস, যেখানে নিয়তি আর রাজনীতির জুয়াড়িরা চালছিল শেষ দান;
ঠিক তখনই সাইরেনের মতো বেজে উঠেছিল একটি নাম-জিয়াউর রহমান, এক লোন উলফ। এক দিকভ্রান্ত জাহাজের নোঙর।
সিপাহি আর জনতার সেই কোলাহলে কোনো সস্তা আবেগ ছিল না, ছিল দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের চিৎকার;
বহুদলীয় গণতন্ত্রের সেই ড্রাফট কোনো ল্যাবরেটরির ফর্মুলা ছিল না, ছিল এই মাটির নিজস্ব প্রেসক্রিপশন।
তুমি এসেছিলে যখন নিয়ন আলোগুলো নিভে যাচ্ছিল, আর শহরটা ডুবে যাচ্ছিল এক অন্ধ ব্ল্যাক আউটে।
এখনো যখন এই মেট্রোপলিটনের ট্রাফিকে আমরা আটকে যাই, ইতিহাসের সেই টার্নিং পয়েন্ট আমাদের তাড়া করে; তুমি শিখিয়েছিলে কী করে এক ছাদের নিচে সামলাতে হয় ডান, বাম আর মধ্যপন্থার সবকটি নিউরোনকে।
বুলেট হয়তো শরীরকে স্তব্ধ করেছে, কিন্তু তোমার রেখে যাওয়া সেই রূপরেখা, সেই প্রতিচিত্র, সেই খসড়া আজো এই শহরের ডিএনএ;
৭ই নভেম্বর তাই কোনো স্যুভেনির নয়, এ হলো আমাদের অস্তিত্বের এক অমীমাংসিত এবং তীক্ষ্ণ জ্যামিতি।
৭ই নভেম্বর, ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকার অম্লান থাকুক।
লেখকঃ প্রিন্স মাহমুদ,গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক।


























