ফরিদপুরে কুমার নদে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি নৌকাবাইচ: উৎসবের আমেজে দুই পাড়ে জনস্রোত

ফরিদপুরে কুমার নদে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি নৌকাবাইচ: উৎসবের আমেজে দুই পাড়ে জনস্রোত
বিপ্লব কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
নদীর বুকে গর্জে ওঠা বৈঠার ঝংকার, মাঝিদের সারি গান আর দুই তীরে হাজার হাজার মানুষের করতালি ও উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে গ্রামবাংলার শতবছরের ঐতিহ্য ফিরে এলো ফরিদপুরের কুমার নদের বুকে। ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর উপস্থিতিতে এক চোখধাঁধানো নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কুমার নদের দুই পাড়ে নেমেছিল মানুষের ঢল, তৈরি হয়েছিল অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কান্দি গ্রাম এবং ভাঙ্গা উপজেলার মুনছুরাবাদের মধ্যবর্তী কুমার নদজুড়ে এ নৌকা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতাটি সরাসরি উপভোগ করতে ট্রলারযোগে নদে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি প্রতিযোগিতা তদারকি করেন, প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন এবং কুমার নদের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁধভাঙা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দিকনির্দেশনায় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটুর তত্ত্বাবধানে লোকজ সংস্কৃতির এই জমকালো উৎসব ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়।
নৌকাবাইচ উপলক্ষে নগরকান্দা ও ভাঙ্গা উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ঢাকঢোলের তালে রঙিন নৌকাগুলোর দ্রুত ছুটে চলা আর মাঝিদের সমন্বিত বৈঠার ছন্দ নজর কাড়ে উপস্থিত দর্শনার্থীদের। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নদীর তীরে বসে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা, যা লোকজ এ আয়োজনে যোগ করে বাড়তি প্রাণ।
মেলায় আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা জানান, নৌকাবাইচ কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি গ্রামবাংলার সম্প্রীতি, ঐক্য ও লোক সংস্কৃতির মূল চালিকাশক্তি। নদীকেন্দ্রিক এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে ধন্যবাদ জানান তারা। পাশাপাশি এ ধরনের লোকজ আয়োজন প্রতিবছর নিয়মিত বজায় রাখার জোর দাবি জানান তারা।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করে কুমার নদের ঢেউ আর হাজারো মানুষের গগনবিদারি উল্লাসের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় দিনব্যাপী এ জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার 

শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার 

ফরিদপুরে কুমার নদে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি নৌকাবাইচ: উৎসবের আমেজে দুই পাড়ে জনস্রোত

আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
বিপ্লব কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
নদীর বুকে গর্জে ওঠা বৈঠার ঝংকার, মাঝিদের সারি গান আর দুই তীরে হাজার হাজার মানুষের করতালি ও উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে গ্রামবাংলার শতবছরের ঐতিহ্য ফিরে এলো ফরিদপুরের কুমার নদের বুকে। ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর উপস্থিতিতে এক চোখধাঁধানো নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কুমার নদের দুই পাড়ে নেমেছিল মানুষের ঢল, তৈরি হয়েছিল অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কান্দি গ্রাম এবং ভাঙ্গা উপজেলার মুনছুরাবাদের মধ্যবর্তী কুমার নদজুড়ে এ নৌকা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতাটি সরাসরি উপভোগ করতে ট্রলারযোগে নদে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি প্রতিযোগিতা তদারকি করেন, প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন এবং কুমার নদের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁধভাঙা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দিকনির্দেশনায় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটুর তত্ত্বাবধানে লোকজ সংস্কৃতির এই জমকালো উৎসব ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়।
নৌকাবাইচ উপলক্ষে নগরকান্দা ও ভাঙ্গা উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ঢাকঢোলের তালে রঙিন নৌকাগুলোর দ্রুত ছুটে চলা আর মাঝিদের সমন্বিত বৈঠার ছন্দ নজর কাড়ে উপস্থিত দর্শনার্থীদের। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নদীর তীরে বসে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা, যা লোকজ এ আয়োজনে যোগ করে বাড়তি প্রাণ।
মেলায় আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা জানান, নৌকাবাইচ কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি গ্রামবাংলার সম্প্রীতি, ঐক্য ও লোক সংস্কৃতির মূল চালিকাশক্তি। নদীকেন্দ্রিক এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে ধন্যবাদ জানান তারা। পাশাপাশি এ ধরনের লোকজ আয়োজন প্রতিবছর নিয়মিত বজায় রাখার জোর দাবি জানান তারা।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করে কুমার নদের ঢেউ আর হাজারো মানুষের গগনবিদারি উল্লাসের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় দিনব্যাপী এ জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব।
বিজ্ঞাপন