চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা মাস্টারমাইড খোকা ও তার ভাতিজা গ্রেপ্তার

চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা মাস্টারমাইড খোকা ও তার ভাতিজা গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর এর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে মিঠামইন থানা পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মিরপুর থেকে মোকারম হোসেন খোকা এবং নেত্রকোনা থেকে তার ভাতিজা রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মোকারম হোসেন খোকা মিঠামইন উপজেলার ভাটিঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের আব্দুল হাসিম মিয়ার ছেলে। তার ভাতিজা রিয়াদ হোসেন একই গ্রামের রান্নু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়,মিঠামইন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোকারম হোসেন খোকা আত্মগোপনে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় হামলার শিকার হন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। অভিযোগ অনুযায়ী, আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলাল (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মোকারম হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেন। এরপর থেকে মোকারম আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রাতেই হেলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন অন্য আসামিদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাহিন আলমকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।

জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন, ‘বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় অভিযান চালিয়ে মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’

ট্যাগ
জনপ্রিয়
শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার 

শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার 

চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা মাস্টারমাইড খোকা ও তার ভাতিজা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর এর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে মিঠামইন থানা পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মিরপুর থেকে মোকারম হোসেন খোকা এবং নেত্রকোনা থেকে তার ভাতিজা রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মোকারম হোসেন খোকা মিঠামইন উপজেলার ভাটিঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের আব্দুল হাসিম মিয়ার ছেলে। তার ভাতিজা রিয়াদ হোসেন একই গ্রামের রান্নু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়,মিঠামইন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোকারম হোসেন খোকা আত্মগোপনে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় হামলার শিকার হন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। অভিযোগ অনুযায়ী, আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলাল (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মোকারম হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেন। এরপর থেকে মোকারম আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রাতেই হেলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন অন্য আসামিদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাহিন আলমকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।

জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন, ‘বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় অভিযান চালিয়ে মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’