গাইবান্ধা প্রতিনিধি
মানুষের মনের কষ্ট সব সময় চোখে দেখা যায় না। হাসিমুখের আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর মানসিক যন্ত্রণা। সেই না-বলা কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা, মানসিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে পালিত হয়েছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬।
দিবসটি উপলক্ষে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) ও স্ট্রমী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘Lived experiences heard: real voices, real change’। বাংলায় যার ভাবার্থ, ‘অভিজ্ঞতার গল্প শুনুন, মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বরই আনুক বাস্তব পরিবর্তন’।
কর্মসূচিতে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মী আচরণ, তাঁদের অভিজ্ঞতা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, সুস্থ জীবন মানেই শুধু রোগমুক্ত শরীর নয়; মানসিক প্রশান্তি ও ভালো থাকাও সামগ্রিক সুস্থতার অপরিহার্য অংশ। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করতে পারে। সময়মতো সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সেবা না পেলে এসব সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা, ভয় কিংবা সামাজিক অপবাদ যেন কেউকে নীরবে কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য না করে—এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন কাউকে দুর্বল বা দোষী মনে না করে তাঁর কথা শোনা, পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ পেতে সহযোগিতা করাই মানবিক দায়িত্ব।
কর্মসূচিতে মানসিক চাপ মোকাবিলার উপায়, প্রাথমিক মনোসামাজিক সহায়তা (পিএসএস), সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ এবং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শিশু-কিশোর, নারী ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সিডস কর্মসূচির সংলাপ সেন্টারের কিশোর-কিশোরীরা। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ডা. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফুলছড়ি, গাইবান্ধার মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, জিইউকের শিক্ষা কর্মকর্তা (পিও) মো. আককাস আলী আকন্দ এবং ফুলছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক মো. আল-ফারুক সরকার।
আয়োজকদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য কোনো লজ্জা বা অবহেলার বিষয় নয়। একজন মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে ব্যক্তি, পরিবার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
বার্তা একটাই—মানুষের মনের কথা শুনুন, কষ্টকে অবহেলা করবেন না; সহমর্মিতা ও সচেতনতায় গড়ে তুলুন মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব সমাজ।




















