হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি, ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে এখন আর মানুষের ঘুম ভাঙ্গে না  

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি, ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে এখন আর মানুষের ঘুম ভাঙ্গে না  
মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর):
কথায় বলে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বাড়া বানে।কিন্তু  এখন  আর ঢেঁকিই দেখা যায় না। মেয়েরাও এখন আর গায় না, “ও ধান ভানি রে ঢেঁকিতে পার দিয়া,ঢেকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া দুলিয়া”। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী  ধান ভানার ঢেঁকি। আগের দিনে রামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েরা ঢেঁকিতে ধান ভেঙ্গে ঢেঁকি ছাটা চাল তৈরি করত। এখন আর গ্রাম বাংলার সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। এখন ১০-১২টি গ্রাম ঘুরলেও একটা  ঢেঁকি দেখা যায় না। কালের বিবর্তনে যান্ত্রিক যুগে চাপা পড়ে গেছে পুরনো দিনের সেইসব তৈজসপত্র। একসময় ধান ছাটার জন্য,ধানের চাল থেকে আটা তৈরি করার জন্য, বিভিন্ন ধরনের মসলা গুড়া করার জন্য, চিড়া তৈরির জন্য, ডাল ভাঙ্গানো  সহ বিভিন্ন জিনিস গুড়া করার জন্য এই ঢেঁকিই ছিল  একমাত্র ভরসা। ওই সময় রামগঞ্জের প্রতিটি গ্রামের মা,চাচীরা মধ্য রাতে ঘুম থেকে ওঠেই ঢেঁকিতে ধান ভানা শুরু করতো।তখন ঢেকির ধুপধাপ শব্দেই গ্রামের মানুষের ঘুম ভাঙতো। কিন্তু ঢেঁকির সেই ধুপ ধাপ শব্দ এখন আর শোনা যায় না।
 আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মতো এখন আর চোখেই পড়ে না। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণীদের ঘরে ধান থেকে নতুন চাল ও চালের গুঁড়া করার ধুম পড়ে যেত। সে চাল দিয়ে তৈরি করা হতো পিঠা-পুলি, ফিরনি, পায়েস।
এছাড়া নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূঁজোয় ঢেঁকিতে ধান ভেনে চালের গুঁড়া তৈরি করা হতো। এসব ছিল বাংলার ঐতিহ্য। ঢেঁকি ছাঁটা চালের গুড়া দিয়ে তৈরি পিঠা যেমন সুস্বাদু তেমনি মজা।
ঢেঁকিছাঁটা আউশ চালের পান্তা ভাত খেতে খুব স্বাদ লাগতো । একসময় মানুষ ঢেঁকিতে ধান ও চাল দিয়ে চিড়া তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো।
ঢেঁকি বিলুপ্ত হওয়ার কারণে এখনকার ছেলে মেয়েরা ঢেঁকি কি জিনিস তা আর চিনে না। বইয়ের পাতায় ঢেঁকির ছবি দেখলেও বাস্তবে কিন্তু অনেকেই ঢেঁকি দেখে নাই। অদূর ভবিষ্যতে এই প্রজন্মকে হয়তো জাদুঘরে গিয়েই দেখতে হবে ঢেঁকি।
রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক, ডাক্তার ফয়সাল ইসলাম বলেন ঢেঁকি ছাটা চাল ছিল একসময় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এ চালের ভাত অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। ঢেঁকি ছাটা চালের ভাতের মারে প্রচুর ভিটামিন থাকে।এই ভিটামিন শিশুদের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল দিল্লি পুলিশ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল দিল্লি পুলিশ

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি, ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে এখন আর মানুষের ঘুম ভাঙ্গে না  

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর):
কথায় বলে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বাড়া বানে।কিন্তু  এখন  আর ঢেঁকিই দেখা যায় না। মেয়েরাও এখন আর গায় না, “ও ধান ভানি রে ঢেঁকিতে পার দিয়া,ঢেকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া দুলিয়া”। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী  ধান ভানার ঢেঁকি। আগের দিনে রামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েরা ঢেঁকিতে ধান ভেঙ্গে ঢেঁকি ছাটা চাল তৈরি করত। এখন আর গ্রাম বাংলার সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। এখন ১০-১২টি গ্রাম ঘুরলেও একটা  ঢেঁকি দেখা যায় না। কালের বিবর্তনে যান্ত্রিক যুগে চাপা পড়ে গেছে পুরনো দিনের সেইসব তৈজসপত্র। একসময় ধান ছাটার জন্য,ধানের চাল থেকে আটা তৈরি করার জন্য, বিভিন্ন ধরনের মসলা গুড়া করার জন্য, চিড়া তৈরির জন্য, ডাল ভাঙ্গানো  সহ বিভিন্ন জিনিস গুড়া করার জন্য এই ঢেঁকিই ছিল  একমাত্র ভরসা। ওই সময় রামগঞ্জের প্রতিটি গ্রামের মা,চাচীরা মধ্য রাতে ঘুম থেকে ওঠেই ঢেঁকিতে ধান ভানা শুরু করতো।তখন ঢেকির ধুপধাপ শব্দেই গ্রামের মানুষের ঘুম ভাঙতো। কিন্তু ঢেঁকির সেই ধুপ ধাপ শব্দ এখন আর শোনা যায় না।
 আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মতো এখন আর চোখেই পড়ে না। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণীদের ঘরে ধান থেকে নতুন চাল ও চালের গুঁড়া করার ধুম পড়ে যেত। সে চাল দিয়ে তৈরি করা হতো পিঠা-পুলি, ফিরনি, পায়েস।
এছাড়া নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূঁজোয় ঢেঁকিতে ধান ভেনে চালের গুঁড়া তৈরি করা হতো। এসব ছিল বাংলার ঐতিহ্য। ঢেঁকি ছাঁটা চালের গুড়া দিয়ে তৈরি পিঠা যেমন সুস্বাদু তেমনি মজা।
ঢেঁকিছাঁটা আউশ চালের পান্তা ভাত খেতে খুব স্বাদ লাগতো । একসময় মানুষ ঢেঁকিতে ধান ও চাল দিয়ে চিড়া তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো।
ঢেঁকি বিলুপ্ত হওয়ার কারণে এখনকার ছেলে মেয়েরা ঢেঁকি কি জিনিস তা আর চিনে না। বইয়ের পাতায় ঢেঁকির ছবি দেখলেও বাস্তবে কিন্তু অনেকেই ঢেঁকি দেখে নাই। অদূর ভবিষ্যতে এই প্রজন্মকে হয়তো জাদুঘরে গিয়েই দেখতে হবে ঢেঁকি।
রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক, ডাক্তার ফয়সাল ইসলাম বলেন ঢেঁকি ছাটা চাল ছিল একসময় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এ চালের ভাত অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। ঢেঁকি ছাটা চালের ভাতের মারে প্রচুর ভিটামিন থাকে।এই ভিটামিন শিশুদের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিজ্ঞাপন