আকাশছোঁয়া উত্তেজনা আর হাজারো ফুটবলপ্রেমীর গগনবিদারী আনন্দ চিৎকারের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সম্পন্ন হলো ‘চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট সিজন-২। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ঐতিহ্যবাহী ফকিরপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনালে তরুণ ক্লাব রওশনপুরকে ট্রাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতেছে মহানন্দা যুব সংঘ রনচন্ডি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ১৬ দলের এই ফুটবল লড়াইয়ের সমাপনী দিনটি ছিল উৎসবমুখর। ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া রনচন্ডি ও রওশনপুর দলের মধ্যে শুরু থেকেই চলে সমানে-সমান লড়াই। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালালেও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি গড়ায় ভাগ্যনির্ধারক ট্রাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে জয় ছিনিয়ে নেয় রনচন্ডির খেলোয়াড়রা।
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো তিরনইহাট ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ফকিরপাড়া মাঠটি যেন জনারণ্যে পরিণত হয়। মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের ঢল নামে পাশের বাড়িগুলোর ছাদে, টিনের চালায় এমনকি মগডালে। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না গ্যালারি কিংবা তার আশেপাশে। নারী-শিশুসহ সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গ্রমীণ ফুটবলের এক অনন্য গণজোয়ার তৈরি করে।
তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলমগীর হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম.এ. মজিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক এম.এ. মজিদ বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এই টুর্নামেন্ট কেবল বিনোদন নয়, বরং হারানো ফুটবল ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস। তিনি স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ফকিরপাড়া খেলার মাঠের অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফি, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন রঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহীন প্রমুখ। এ ছাড়াও খেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক আমান, সদস্য সচিব আজিজুল হকসহ সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজির হোসেন ও মরহুম আজাহারুল ইসলামের পরিবারের সদস্যগনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিরনইহাট ইউনিয়নে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করা তিন সাবেক চেয়ারম্যান-মরহুম নাজির হোসেন, মরহুম আবুল বাশার ও মরহুম আজহারুল ইসলামের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এই ব্যতিক্রমী টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইন। এই আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের হাতে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।




















