শাহিন জামান, লালমনিরহাট:
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কিশামত ঢঢগাছ এলাকায় পরিচয়হীন এক কিশোরীকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, তার বয়স আনুমানিক ১৬ থেকে ১৭ বছর। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে স্থানীয়রা ওই কিশোরীকে রাস্তার পাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে সে নিজের পরিচয় ও ঠিকানা স্পষ্টভাবে বলতে পারছিল না। নিজের নাম ‘সুবহা’ বলে পরিচয় দেয়। তবে বারবার তার বাড়ি কাকিনা এলাকায় বলে জানায়।
স্থানীয়রা জানান, কিশোরীটি হাত কানের কাছে নিয়ে ফোনে কথা বলার ভঙ্গি করছিল। তবে তার হাতে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। তার আচরণে অসংলগ্নতা লক্ষ্য করে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
এ সময় কিশোরীটি দাবি করে, তার পেটে সন্তান রয়েছে এবং অনাগত সন্তানটি ছেলে হবে। সে তার সন্তানকে বাঁচাতে চায় বলেও জানায়। তবে তার গর্ভাবস্থার বিষয়টি চিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কোনো প্রাথমিক লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে আগামীকাল আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
মেয়েটির পরিচয় শনাক্ত করতে স্থানীয়রা তার ছবি ও ভিডিও লালমনিরহাট সদর থানায় পাঠিয়ে কোনো নিখোঁজের তথ্য রয়েছে কি না জানতে চান। পাশাপাশি সমাজসেবা কার্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
রাত ১২টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবায়দুল হককে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় মেয়েটিকে ইজিবাইকে করে তার বাড়িতে নেওয়া হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মেয়েটিকে লালমনিরহাট সদর থানায় নেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সে অসুস্থ ছিল এবং শারীরিক কষ্টে ভুগছিল।
পরে বিষয়টি সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে বিষয়টি।
জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, “বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে সমাজসেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আরএমওকে ওই কিশোরীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং তার যথাযথ যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কিশোরীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
এদিকে, এখন পর্যন্ত কিশোরীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তার পরিবারের সন্ধানও পাওয়া যায়নি। তার দেওয়া নাম ও ঠিকানার তথ্যও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, পরিচয়হীন ও অসুস্থ কোনো কিশোরীকে রাস্তায় পাওয়া গেলে তার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পরিবারের সন্ধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন।
কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত ও তার পরিবারের সন্ধানে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




















