তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণ,নাশকতা প্রতিরোধ, সিসিটিভি নজরদারি ও স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয় সম্পর্কে প্রস্তুতি সভায় আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পৌর শহরের ভানুগাছ রোডের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসমিন।
সভায় উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয় আরও নিবিড় করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সেগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখার ওপর। উৎসব চলাকালে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য পূজা কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীমঙ্গলের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখেই দুর্গাপূজার আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য প্রশাসন, পুলিশ, পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
পূজাকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে না পারে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যেকোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সহায়তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
সভায় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলায় ১৭৩ টি পূজা মন্ডবগুলোর নেতৃবৃন্দের হাতে আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হয়।




















