কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের রাজমাল্লী তালুয়াপাড়া হামিদিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান দুর্নীতি ও অনিয়মের আঁতুড়ঘর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই প্রতিষ্ঠানে গোপনে ৩টি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেন। এতে এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজে চলছে নানা গুঞ্জন।
গোপন সূত্রে জানা যায়, উমর মজিদ ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানের পুত্র সুমনকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেন ২০ শতাংশ জমির বিনিময়ে।
এছাড়া কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে হাবিবুর রহমানের নিকট ১৫ লাখ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে সাদেকুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়।
এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের নিজ বাড়িতে সম্পন্ন হয়, কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে ওই এলাকার এরশাদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ একজন দুর্নীতিবাজ।
প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা রোস্তম আলী বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পেছনে যাদের অক্লান্ত ত্যাগ, পরিশ্রম ও মেধা ব্যয় করেছেন, তাঁদের পরিবারের লোকজনকে বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের উপঢৌকনের বিনিময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
জমিদাতা মরহুম আব্দুল জব্বারের নাতি আতিকুর রহমান বলেন, আমি যেদিন শুনেছি মাদরাসায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়েছে, সেইদিনে আবেদন করতে চাইলে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, আবেদনের সময় শেষ।
এমনকি ৩টি পদের বিপরীতে নামমাত্র ১৩ জন পরীক্ষার্থী দেখানো হয়।
নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার সময় তৎকালীন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আতাউর রহমান বকসী বলেন, টাকা-পয়সা লেনদেন হয়নি। জমির বিনিময়ে চাকরি প্রদান বিষয়টি আমাকেও বেশ কয়েকজন বলেছে। কিন্তু কতটুকু সত্যি ও মিথ্যা, তা বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, যথাযথ নিয়োগ বিধি মেনে আমি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি এবং জমির বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ২০ শতাংশ জমি নিজস্ব টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















