আনোয়ারুল ইসলাম রনি রংপুর :
রংপুর মহানগরীর অবকাঠামো ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৮১৩ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে নগরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত প্রকল্প দুটির মধ্যে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার প্রকল্পের আওতায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। অপরদিকে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প দুটি অনুমোদনের খবরে রংপুরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ র্যালির আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রংপুরের উন্নয়নে এ ধরনের বড় প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, “রংপুর মহানগরীর দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে এই প্রকল্প দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।”
রংপুরের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিকতা এবং এমন বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রংপুরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।
রংপুর মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম লেলিন বলেন, “রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে একনেকে ১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন নিঃসন্দেহে নগরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা, সড়ক যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে এই প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।
রংপুরের উন্নয়নে এমন বড় প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডনকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনি রংপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশাকে সামনে রেখে প্রকল্পগুলো অনুমোদনের পর্যায়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপকমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, “রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে একনেকে অনুমোদিত এই বৃহৎ প্রকল্প নিঃসন্দেহে নগরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি রংপুরের ক্রীড়াঙ্গনকেও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আমরা আশা করি, আধুনিক নগরায়নের সঙ্গে সমন্বয় করে রংপুরে ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ক্রিকেটের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত আয়োজন নিশ্চিত করা গেলে রংপুর থেকে জাতীয় পর্যায়ে আরও প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে।
রংপুরের সামগ্রিক উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় ক্রীড়াঙ্গনও যেন পিছিয়ে না থাকে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা বলেন, “তারেক রহমানের জন্য রংপুরবাসী ধন্য। তিনি রংপুরবাসীকে কৃতজ্ঞ করেছেন। যেখানে আমরা একটি আসনও উপহার দিতে পারিনি, সেখানে তিনি আমাদের রেকর্ড পরিমাণ বাজেট উপহার দিয়েছেন।
ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—সব দিক থেকেই আমরা পিছিয়ে রয়েছি। তাই রংপুরের উন্নয়নে এই বাজেটের গুরুত্ব অপরিসীম। এই বিশাল প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আমি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি রংপুরের জন্য এই বাজেট নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
আমরা চাই, এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণ ও মেধাবীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হোক। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি আধুনিক নগরায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং নগরীর প্রতিটি সেক্টরে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর (আইটি) সেবা চালু করা হোক।”




















