ওমর আলী হত্যার ৫ বছর পর পিবিআইয়ের হাতে আসামি গ্রেপ্তার

ওমর আলী হত্যার ৫ বছর পর পিবিআইয়ের হাতে আসামি গ্রেপ্তার
বিপ্লব কুমার দাস, ফরিদপুর থেকেঃ
কিশোর ওমর আলী হত্যার দীর্ঘ ৫ বছর পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, দুই সহযোগীর স্ত্রীর সাথে ওমরের পরকীয়ার সন্দেহে ৫ জন মিলে হাত-পা বেঁধে, কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃত নজরুল ইসলাম রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির ঢোলজানী এলাকার একটি ঘাসখেত থেকে নিখোঁজের ৩ দিন পর কিশোর ওমর আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার এক মাস পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে থাকা বিশেষ আলামতের সূত্র ধরে দীর্ঘ সময় তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি নজরুলকে শনাক্ত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নজরুল দেশের বিভিন্ন জেলায় ছদ্মবেশে আত্মগোপন করেছিল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, দুই সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া রয়েছে—এমন ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তি এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্বে তারা একসঙ্গে মাদক সেবন করে। ঘটনার দিন রাতে ওমরকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে এক ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন ও ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয়। পরদিন রাতে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের ঘাসখেতে ফেলে রেখে যায় তারা।
আসামি নজরুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মোট ৫ জন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে ঢাকা-দিল্লি যৌথভাবে কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে ঢাকা-দিল্লি যৌথভাবে কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ওমর আলী হত্যার ৫ বছর পর পিবিআইয়ের হাতে আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
বিপ্লব কুমার দাস, ফরিদপুর থেকেঃ
কিশোর ওমর আলী হত্যার দীর্ঘ ৫ বছর পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, দুই সহযোগীর স্ত্রীর সাথে ওমরের পরকীয়ার সন্দেহে ৫ জন মিলে হাত-পা বেঁধে, কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃত নজরুল ইসলাম রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির ঢোলজানী এলাকার একটি ঘাসখেত থেকে নিখোঁজের ৩ দিন পর কিশোর ওমর আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার এক মাস পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে থাকা বিশেষ আলামতের সূত্র ধরে দীর্ঘ সময় তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি নজরুলকে শনাক্ত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নজরুল দেশের বিভিন্ন জেলায় ছদ্মবেশে আত্মগোপন করেছিল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, দুই সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া রয়েছে—এমন ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তি এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্বে তারা একসঙ্গে মাদক সেবন করে। ঘটনার দিন রাতে ওমরকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে এক ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন ও ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয়। পরদিন রাতে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের ঘাসখেতে ফেলে রেখে যায় তারা।
আসামি নজরুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মোট ৫ জন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বিজ্ঞাপন