সরকার শাহাদত হোসেন
ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। চারপাশে হালকা কুয়াশা। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুতে ঝলমল করছে সকালের আলো। মেঠোপথে হাঁটলে বাতাসে মিলছে হিমেল ছোঁয়া। ক্যালেন্ডারের হিসাবে এখনো আশ্বিন মাসের শেষভাগ, কিন্তু গাইবান্ধার সাত উপজেলায় প্রকৃতি যেন আগেভাগেই শীতের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোরবেলা হালকা কুয়াশা, শিশির আর ঠান্ডা বাতাসে শীতের আমেজ অনুভব করছেন মানুষ। অনেকেই জানিয়েছেন, শেষ রাত ও ভোরে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় লেপ-কাঁথা, গায়ের চাদর এমনকি হালকা কম্বল ব্যবহার শুরু করেছেন।
ভোরের বদলে যাওয়া প্রকৃতির সঙ্গে গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্যেও এসেছে নতুন মাত্রা। ধানখেতের ওপর কুয়াশার পাতলা চাদর, ঘাসে জমে থাকা শিশির, দূরের পথের আবছায়া আর পাখির ডাক মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক অন্যরকম আবহ। দিনের বেলায় রোদের তেজ থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে বাড়ছে শীতলতার স্পর্শ।
এখন আমন ধানের মৌসুম। কৃষকেরা ভোরের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই মাঠে যাচ্ছেন। কেউ ধানের পরিচর্যায়, কেউবা শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মূলা ও শাকসবজির চারা রোপণ শুরু করেছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলার বিটিসি এলাকার বাসিন্দা আলী হক বলেন, “এবার মনে হয় আগাম শীত আসবে। ২২ আশ্বিনেই ভোরে ঠান্ডা বেশ অনুভব হচ্ছে। আমরা শীতের লেপ, তোষক ও কম্বল রোদে দেওয়া শুরু করেছি। গ্রামবাংলায় শীতের আগে এটাই আমাদের পুরনো সংস্কৃতি।”
সদর উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভোরের দিকে আবহাওয়ার পরিবর্তন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে। চিকিৎসকরাও আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রকৃতিবিদদের মতে, আশ্বিনের শেষভাগে রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। উত্তরাঞ্চলে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। ফলে হেমন্তের আগমনের আগেই শীতের আভাস পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা মিলিয়ে যায়, ফিরে আসে উষ্ণতা। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই আবার নেমে আসে শীতল আবহ। দিনের গরম আর রাতের ঠান্ডার এই বৈপরীত্যই এখন গাইবান্ধার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
শীত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। তবু ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস, হিমেল বাতাস আর লেপ-কম্বল রোদে দেওয়ার ব্যস্ততা যেন ঘোষণা দিচ্ছে—উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় শীত ইতোমধ্যেই উঁকি দিতে শুরু করেছে। কৃষকের মাঠে, গ্রামের উঠানে, শিশিরভেজা পথে আর মানুষের কথোপকথনে এখন একটাই আলোচনা—“এবার বুঝি শীত একটু আগেই আসছে!”





















