রামগঞ্জে মেয়াদ উত্তীর্ণ ছাড়পত্র দিয়েই চলছে মেসার্স সানাউল্লাহ ম্যানুফ্যাকচারের দুটি ইটভাটা  

রামগঞ্জে মেয়াদ উত্তীর্ণ ছাড়পত্র দিয়েই চলছে মেসার্স সানাউল্লাহ ম্যানুফ্যাকচারের দুটি ইটভাটা  
মোঃ মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নং ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগ রাজারামপুরের মেসার্স সানাউল্লা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারের দুটি ইটভাটা দীর্ঘদিন যাবত  পরিবেশ অধিদপ্তরের মেয়াদ উত্তীর্ণ ছাড়পত্র দিয়েই চলছে। এতে জনসাধারণের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাছাড়াও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। জানা গেছে ২০১৯ সালের ২৭ জুনের পরে ছাড়পত্রগুলো আর নবায়ন করতে পারেননি। অপরদিকে ইটভাটা দুটি রামগঞ্জ পানিয়ালা সড়কের পাশে ফসলি জমিতে গড়ে ওঠায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে ইটভাটা হতে নাগ রাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাগ রাজারামপুর নূরানী মাদ্রাসা ও মসজিদ মাত্র ৪০০ গজ দূরে অবস্থিত হওয়ায় প্রায় সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সর্দি-কাশি শ্বাসকষ্ট বুক ব্যথা সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।ঘন ঘন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংখ্যাও দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। এলাকাবাসী জানান গত ৮ই এপ্রিল একই ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের একটিও ডিপজলের দুইটি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিলেও অজ্ঞাত কারণে রামগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও মেসার্স সানাউল্লাহ ম্যানুফ্যাকচারের মালিক সানাউল্লাহ পাটোয়ারির দুটি ইটভাটা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এলাকাবাসী জানায় এ ব্যাপারে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।জানা গেছে গত এপ্রিলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক  মোহাম্মদ সোহরাব আলি স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সানাউল্লাহ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচার  এর বিরুদ্ধে পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারি পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষীপুর জেলা কার্যালয় কে নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে এ পর্যন্ত ওই ইটভাটা দুটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।ফলে জনসাধারণের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ হারুনুর রশিদ পাঠান জানান আমরা মেসার্স  সানাউল্লাহ ব্রিকস এন্ড ম্যানুফ্যাকচারের বিরুদ্ধে কাগজ পত্র তৈরী করে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরে ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকাকে প্রেরণ করেছি। অল্প কিছু দিনের মধ্যে শুনানির জন্য ব্রিকফিল্ড কর্তৃপক্ষকে ডাকতে পারে।
অনিয়মের ব্যাপারে সানাউল্লা ব্রিকস মেনুফ্যাকচারের মালিক মোহাম্মদ  সানাউল্লাহ পাটোয়ারীর কাছে জানতে চাওয়া, হলে তিনি  জানান, আমি নিয়ম মেনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই ইটভাটা শুরু করি। কিন্তু গত ২৭ জুন ২০১৯ এর পর হতে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন অজুহাতে ছাড় পত্রগুলো আর নবায়ন করছে না। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আমি ছাড়পত্র নিয়ে দ্বিতীয় ইটভাটাটি প্রতিষ্ঠা করি। যাতে আমার ব্যয় হয় প্রায় চার কোটি টাকা। আমার দুটি ইটভাটাই আধুনিকায়ন করা (অর্থাৎ ঝিকঝাকভাটা) । ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়ার কারণে গত ২০২৩ ইংসনে পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষীপুর জেলা কার্যালয় দুটি ইট ভাটা কে ৫০ হাজার করে ১ লাখ টাকা,২০২৪ ইন সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় পাঁচ লাখ করে ১০ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৫ ইং সনে রামগঞ্জ উপজেলার ভ্রাম্যমান আদালত ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে।ছাড়পত্রগুলো নবায়ন না হওয়ায় প্রতিবছর আমাকে লাখ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে। ছাড়পত্রগুলো নবায়নের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
আশ্বিনেই শীতের উঁকিঝুঁকি! গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ভোরে কুয়াশা-শিশির, বের হচ্ছে লেপ-কম্বল

আশ্বিনেই শীতের উঁকিঝুঁকি! গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ভোরে কুয়াশা-শিশির, বের হচ্ছে লেপ-কম্বল

রামগঞ্জে মেয়াদ উত্তীর্ণ ছাড়পত্র দিয়েই চলছে মেসার্স সানাউল্লাহ ম্যানুফ্যাকচারের দুটি ইটভাটা  

আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
মোঃ মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নং ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগ রাজারামপুরের মেসার্স সানাউল্লা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারের দুটি ইটভাটা দীর্ঘদিন যাবত  পরিবেশ অধিদপ্তরের মেয়াদ উত্তীর্ণ ছাড়পত্র দিয়েই চলছে। এতে জনসাধারণের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাছাড়াও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। জানা গেছে ২০১৯ সালের ২৭ জুনের পরে ছাড়পত্রগুলো আর নবায়ন করতে পারেননি। অপরদিকে ইটভাটা দুটি রামগঞ্জ পানিয়ালা সড়কের পাশে ফসলি জমিতে গড়ে ওঠায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে ইটভাটা হতে নাগ রাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাগ রাজারামপুর নূরানী মাদ্রাসা ও মসজিদ মাত্র ৪০০ গজ দূরে অবস্থিত হওয়ায় প্রায় সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সর্দি-কাশি শ্বাসকষ্ট বুক ব্যথা সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।ঘন ঘন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংখ্যাও দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। এলাকাবাসী জানান গত ৮ই এপ্রিল একই ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের একটিও ডিপজলের দুইটি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিলেও অজ্ঞাত কারণে রামগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও মেসার্স সানাউল্লাহ ম্যানুফ্যাকচারের মালিক সানাউল্লাহ পাটোয়ারির দুটি ইটভাটা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এলাকাবাসী জানায় এ ব্যাপারে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।জানা গেছে গত এপ্রিলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক  মোহাম্মদ সোহরাব আলি স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সানাউল্লাহ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচার  এর বিরুদ্ধে পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারি পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষীপুর জেলা কার্যালয় কে নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে এ পর্যন্ত ওই ইটভাটা দুটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।ফলে জনসাধারণের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ হারুনুর রশিদ পাঠান জানান আমরা মেসার্স  সানাউল্লাহ ব্রিকস এন্ড ম্যানুফ্যাকচারের বিরুদ্ধে কাগজ পত্র তৈরী করে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরে ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকাকে প্রেরণ করেছি। অল্প কিছু দিনের মধ্যে শুনানির জন্য ব্রিকফিল্ড কর্তৃপক্ষকে ডাকতে পারে।
অনিয়মের ব্যাপারে সানাউল্লা ব্রিকস মেনুফ্যাকচারের মালিক মোহাম্মদ  সানাউল্লাহ পাটোয়ারীর কাছে জানতে চাওয়া, হলে তিনি  জানান, আমি নিয়ম মেনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই ইটভাটা শুরু করি। কিন্তু গত ২৭ জুন ২০১৯ এর পর হতে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন অজুহাতে ছাড় পত্রগুলো আর নবায়ন করছে না। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আমি ছাড়পত্র নিয়ে দ্বিতীয় ইটভাটাটি প্রতিষ্ঠা করি। যাতে আমার ব্যয় হয় প্রায় চার কোটি টাকা। আমার দুটি ইটভাটাই আধুনিকায়ন করা (অর্থাৎ ঝিকঝাকভাটা) । ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়ার কারণে গত ২০২৩ ইংসনে পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষীপুর জেলা কার্যালয় দুটি ইট ভাটা কে ৫০ হাজার করে ১ লাখ টাকা,২০২৪ ইন সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় পাঁচ লাখ করে ১০ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৫ ইং সনে রামগঞ্জ উপজেলার ভ্রাম্যমান আদালত ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে।ছাড়পত্রগুলো নবায়ন না হওয়ায় প্রতিবছর আমাকে লাখ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে। ছাড়পত্রগুলো নবায়নের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বিজ্ঞাপন