বিশেষ প্রতিনিধি:শফিকুল ইসলাম শফিক
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে বাদাঘাট সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে ওই ছাত্রী তার এক বন্ধুকে মেসেজ দিয়ে সহযোগিতা চাইলে বন্ধুসহ স্থানীয় যুবকরা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বাদাঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষক। তিনি উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও পৈলনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী-সন্তান সিলেটে থাকেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ছাত্রীর সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে কলেজ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য ওই ছাত্রী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় শিক্ষক তাকে মঙ্গলবার সকালে বাদাঘাট বাজারে দেখা করতে বলেন। মঙ্গলবার সকালে ছাত্রী বাজারে গেলে শিক্ষক তাকে কৌশলে তার বাসায় নিয়ে যান।
ছাত্রীর অভিযোগ, বাসায় নেওয়ার পর শিক্ষক তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে রেখে বাইরে থেকে গেটে তালা দিয়ে শিক্ষক বাজারে জুস ও রুটি আনতে চলে যান। এ সুযোগে ওই ছাত্রী তার এক বন্ধুর কাছে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করেন।
পরে তার বন্ধুসহ এলাকার কয়েকজন যুবক শিক্ষকের বাসায় গিয়ে ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। এ সময় উত্তেজিত লোকজন বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। খবর পেয়ে বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল সিকদার, সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করেন।
ওই ছাত্রী বলেন, ‘কলেজের বিষয়ে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে আসলে স্যার আমাকে বাসায় নিয়ে যান। সেখানে আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে বন্ধুকে মেসেজ পাঠিয়ে সহযোগিতা চাইলে অল্পের জন্য রক্ষা পাই।’
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সোমবার কলেজের এক ছাত্রকে ধমক দিয়েছিলাম। এর জের ধরে পরিকল্পিত ভাবে ওই ছাত্রী ও তার বন্ধু আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।’
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল সিকদার বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করি। তাদের কাছ থেকেই ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহমেদ ফোন রিসিভ না করায় এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়েছে কি না তা জানা যায়নি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস রিপামনি দেবী বলেন, ‘বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে দেখেছি। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে এখনো আমাদের জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


















