জয়পুরহাটের সীমান্তে বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৩ যুবককে ফেরত পাঠাল বিজিবি

জয়পুরহাটের সীমান্তে বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৩ যুবককে ফেরত পাঠাল বিজিবি

জুয়েল শেখ জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি

‎জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

তাঁরা সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে বিজিবিকে খবর দিলে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের সীমান্তের ২৭৬ নম্বর মূল পিলারের কাছে নিয়ে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠান। আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

‎বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্প ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ২৭৬ নম্বর মেইন পিলার দিয়ে বিএসএফ ওই তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। পরে তাঁরা প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের পিলারের কাছে নিয়ে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন।

‎এ ঘটনায় বিএসএফ-১২৩ ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর ক্যাম্প ও বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্পের মধ্যে বেলা ১১টার দিকে পতাকা বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। আরও একটি পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

‎দুপুর ১২টার দিকে রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, ২৭৬ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সড়কের ওপর বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা পাহারা দিচ্ছেন। তিন যুবক তখন ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন।

‎পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিএসএফ তিন যুবককে ২৭৬ নম্বর পিলার দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তাঁরা কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের আবার সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেন।

‎আইয়ুব হোসেন বলেন, ওই তিন জন ভারতীয় বাংলাদেশের কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। তাঁদের তিন জনের পড়নের কাপড় ভেঁজা দেখে সন্দেহ হয়। এরপর তাঁরা ঘটনা খুলে বলেন।

‎আজিম হোসেন বলেন, আমি মঙ্গলবার সকাল থেকে সীমান্ত ঘেঁষা মাঠে কাজ করছিলাম। সকাল সাতটার পর বিজিবি তিন জনকে সীমান্তের ২৭৬ নম্বর পিলারের কাছে এনে রেখে গেছেন।

‎বিজিবির কড়িয়া বিওপির কমান্ডার মহাতাব উদ্দিন বলেন, বিএসএফ তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছিল। বিজিবি তাঁদের আবার ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পাঠিয়েছে। প্রথম দফার পতাকা বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি। আরও চার ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
নিজস্ব জমি ও বহুতল ভবনের দাবিতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে মানববন্ধন

নিজস্ব জমি ও বহুতল ভবনের দাবিতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে মানববন্ধন

জয়পুরহাটের সীমান্তে বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৩ যুবককে ফেরত পাঠাল বিজিবি

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

জুয়েল শেখ জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি

‎জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

তাঁরা সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে বিজিবিকে খবর দিলে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের সীমান্তের ২৭৬ নম্বর মূল পিলারের কাছে নিয়ে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠান। আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

‎বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্প ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ২৭৬ নম্বর মেইন পিলার দিয়ে বিএসএফ ওই তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। পরে তাঁরা প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের পিলারের কাছে নিয়ে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন।

‎এ ঘটনায় বিএসএফ-১২৩ ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর ক্যাম্প ও বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্পের মধ্যে বেলা ১১টার দিকে পতাকা বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। আরও একটি পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

‎দুপুর ১২টার দিকে রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, ২৭৬ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সড়কের ওপর বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা পাহারা দিচ্ছেন। তিন যুবক তখন ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন।

‎পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিএসএফ তিন যুবককে ২৭৬ নম্বর পিলার দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তাঁরা কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের আবার সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেন।

‎আইয়ুব হোসেন বলেন, ওই তিন জন ভারতীয় বাংলাদেশের কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। তাঁদের তিন জনের পড়নের কাপড় ভেঁজা দেখে সন্দেহ হয়। এরপর তাঁরা ঘটনা খুলে বলেন।

‎আজিম হোসেন বলেন, আমি মঙ্গলবার সকাল থেকে সীমান্ত ঘেঁষা মাঠে কাজ করছিলাম। সকাল সাতটার পর বিজিবি তিন জনকে সীমান্তের ২৭৬ নম্বর পিলারের কাছে এনে রেখে গেছেন।

‎বিজিবির কড়িয়া বিওপির কমান্ডার মহাতাব উদ্দিন বলেন, বিএসএফ তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছিল। বিজিবি তাঁদের আবার ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পাঠিয়েছে। প্রথম দফার পতাকা বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি। আরও চার ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।