লামায় ফের পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপন্ন, ১৩ ইটভাটা মালিককে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

লামায় ফের পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপন্ন, ১৩ ইটভাটা মালিককে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান)

ফের পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপন্ন করার দায়ে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ১৩ ইটভাটা মালিককে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একটানা অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন এবং বান্দরবান সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান জেলার সহকারী পরিচালক নুর উদ্দিনসহ স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো হলো—ইউবিএম-১, ইউবিএম-২, বিবিসি, এবিসি-২, এবিসি-৪, এসএসবি, এসবিডাব্লিউ, ৭বিএম, ৫বিএম, কেবিসি, এসএবি ও এমএইচবি। তবে তালিকায় ১৩টি ইটভাটার কথা উল্লেখ থাকলেও প্রদত্ত নামের তালিকায় ১২টি নাম পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, লামা উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৩৯টি ইটভাটা। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় একটি, গজালিয়া ইউনিয়নে একটি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে তিনটি, সরই ইউনিয়নে একটি এবং ফাইতং ইউনিয়নে ৩৩টি ইটভাটা রয়েছে।

এসব ইটভাটায় ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হয়। ভাটার মালিকরা পাশের পাহাড় কেটে বছরের পর বছর কাঁচামালের জোগান দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গত কয়েক বছরে শতাধিক পাহাড় নিশ্চিহ্ন হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন পাহাড় কাটা রোধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ছয়টি অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে কয়েক কোটি টাকা জরিমানা, ইটভাটা মালিকদের কারাদণ্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা করলেও ইটভাটার জন্য পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ বন্ধ হয়নি বলে জানা গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফাইতং ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারায় ১৩ ইটভাটা মালিককে মোট ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন।

এর আগেও অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা এবং পাহাড় কর্তনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদী হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফাইতং ইউনিয়নের পাঁচ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পাহাড় কাটার দায়ে ফাইতং ইউনিয়নের ১৩ ইটভাটা মালিককে জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “কোনোভাবেই পরিবেশ ধ্বংস করে ইটভাটা করতে দেওয়া হবে না। পরিবেশবিধ্বংসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ট্যাগ
জনপ্রিয়
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি আওলাই ইউনিয়নের শিরতা গ্রামে এন এস আই তথ্যের ভিত্তিতে রমজানের বাসা থেকে ৭৬ বস্তা সার উদ্ধার

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি আওলাই ইউনিয়নের শিরতা গ্রামে এন এস আই তথ্যের ভিত্তিতে রমজানের বাসা থেকে ৭৬ বস্তা সার উদ্ধার

লামায় ফের পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপন্ন, ১৩ ইটভাটা মালিককে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান)

ফের পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপন্ন করার দায়ে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ১৩ ইটভাটা মালিককে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একটানা অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন এবং বান্দরবান সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান জেলার সহকারী পরিচালক নুর উদ্দিনসহ স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো হলো—ইউবিএম-১, ইউবিএম-২, বিবিসি, এবিসি-২, এবিসি-৪, এসএসবি, এসবিডাব্লিউ, ৭বিএম, ৫বিএম, কেবিসি, এসএবি ও এমএইচবি। তবে তালিকায় ১৩টি ইটভাটার কথা উল্লেখ থাকলেও প্রদত্ত নামের তালিকায় ১২টি নাম পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, লামা উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৩৯টি ইটভাটা। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় একটি, গজালিয়া ইউনিয়নে একটি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে তিনটি, সরই ইউনিয়নে একটি এবং ফাইতং ইউনিয়নে ৩৩টি ইটভাটা রয়েছে।

এসব ইটভাটায় ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হয়। ভাটার মালিকরা পাশের পাহাড় কেটে বছরের পর বছর কাঁচামালের জোগান দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গত কয়েক বছরে শতাধিক পাহাড় নিশ্চিহ্ন হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন পাহাড় কাটা রোধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ছয়টি অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে কয়েক কোটি টাকা জরিমানা, ইটভাটা মালিকদের কারাদণ্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা করলেও ইটভাটার জন্য পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ বন্ধ হয়নি বলে জানা গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফাইতং ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারায় ১৩ ইটভাটা মালিককে মোট ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন।

এর আগেও অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা এবং পাহাড় কর্তনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদী হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফাইতং ইউনিয়নের পাঁচ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পাহাড় কাটার দায়ে ফাইতং ইউনিয়নের ১৩ ইটভাটা মালিককে জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “কোনোভাবেই পরিবেশ ধ্বংস করে ইটভাটা করতে দেওয়া হবে না। পরিবেশবিধ্বংসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”