সরকার শাহাদত হোসেন:
গাইবান্ধাজুড়ে চলছে যেন বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং। বিদ্যুৎ আসে, আবার কিছুক্ষণ পরই চলে যায়। এভাবে দিনে ১৫ থেকে ১৬ বার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন জেলার লাখো মানুষ। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন আর সাধারণ লোডশেডিং নয়—এ যেন ‘বিদ্যুৎ ভেলকিবাজি’।
জেলার সাত উপজেলা—গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়িতে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শহর এলাকায় দৈনিক ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় ১২ থেকে ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পর আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও মিলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনের বেলায় দোকানপাট, ব্যাংক, ফটোকপি সেন্টার, অনলাইন ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার কাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। রাতের বেলায় গরমে ঘুমাতে না পেরে দুর্ভোগে পড়ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তাদের সন্তানরা চরম সমস্যায় পড়ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি খাত। বিদ্যুৎ না থাকায় গভীর নলকূপ ও সেচ পাম্প বন্ধ থাকছে। এতে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের জমিতে সেচ দিতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহেও দেখা দিয়েছে সংকট।
এদিকে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত বিল নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘটনাও ঘটেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল কমছে না; বরং নানা চার্জের কারণে ব্যয় বেড়েই চলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সংকট, এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির প্রভাব এখন জেলা পর্যায়ে স্পষ্টভাবে পড়ছে,গাইবান্ধা জেলায় সচেতন নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যুতের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি উৎপাদন, স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গাইবান্ধাবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—“বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজি আর কতদিন?”




















