আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকা। চারদিকে হাওর। বর্ষায় পানিতে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ মাঠ। তখন গবাদিপশু নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে অনেক কৃষককে ছয় মাস পর্যন্ত গরু গোয়ালঘরে রেখে পালন করতে হয়। তবে পানি কমতে শুরু করলেই বদলে যায় দৃশ্য। হাওরের জেগে ওঠা জমিতে জন্মানো ঘাস ও লতাপাতা হয়ে ওঠে গরুর খাবারের অন্যতম উৎস।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষায় চারদিকে পানি থাকায় গরু চরানোর মতো জায়গা থাকে না। তখন গোয়ালঘরেই গরু রাখতে হয়। গরুর খাবারের জন্য বাজার থেকে খড়, ভুসি, খইলসহ বিভিন্ন খাদ্য কিনে দিতে হয়। এতে গরু পালনের খরচ বেড়ে যায়।
নোয়াপাড়ার এক কৃষক বলেন, “বর্ষার সময় গরু নিয়ে বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। ছয় মাসের মতো গোয়ালেই রাখতে হয়। তখন প্রতিদিন গরুর খাবার কিনতে হয়। খরচ অনেক বেড়ে যায়। পানি কমে মাঠ জাগলে গরু বাইরে নিয়ে চরাতে পারি, তখন খাবারের খরচ অনেকটাই কমে আসে।”
আরেক কৃষক বলেন, “হাওরের জমি যখন শুকাতে শুরু করে, তখন গরু নিয়ে মাঠে যাই। সেখানে ঘাস ও লতাপাতা খেতে পারে। এতে গরু যেমন খোলা জায়গায় চলাফেরা করতে পারে, তেমনি আমাদের বাড়তি খাবার কেনার খরচও কমে।”
শুষ্ক মৌসুমে হাওরের এই জেগে ওঠা জমি শুধু গবাদিপশুর চারণভূমিই নয়, পরবর্তী সময়ে ধান চাষের জন্যও প্রস্তুত হতে থাকে। ফলে একই জমি বছরের এক সময়ে থাকে পানির নিচে, আর পানি নেমে গেলে হয়ে ওঠে কৃষিকাজ ও পশুপালনের সহায়ক ভূমি।
নিকলীর হাওরাঞ্চলে গবাদিপশু পালনের সঙ্গে মৌসুমি পানির এই সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এর আগে বড় হাওর এলাকায় পানি না থাকায় শত শত গরু-মহিষকে কাঁচা ঘাস ও লতাপাতা খেতে দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছিলেন, এভাবে চারণভূমিতে গরু চরাতে পারলে পশু পালনের খরচ কমে এবং গরুর দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে।
হাওরপারের মানুষের জীবনযাত্রায় তাই পানির ওঠানামার প্রভাব স্পষ্ট। বর্ষায় যে পানি গবাদিপশুকে গোয়ালঘরে আটকে রাখে, সেই পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে ওঠা জমিই আবার তাদের জন্য হয়ে ওঠে প্রাকৃতিক চারণভূমি। পাশাপাশি শুরু হয় নতুন কৃষি মৌসুমের প্রস্তুতি।























