ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জমি লিজ দেওয়ার টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাদের লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুরো টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
লিখিত অভিযোগ ও টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র থেকে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ গেল ১৩ সেপ্টেম্বর মিলের আওতাধীন সালন্দর-জামালপুর, মোহন কৃষি খামার, বোচাপুকুর, হাবিবপুর ও কহরপাড়া খামারের বিভিন্ন ব্লকের মোট ৩৭৮ দশমিক ৫০ একর জমি আখ রোপণ ও সাথি ফসল হিসেবে আলু চাষের জন্য লিজ দিতে দরপত্র আহ্বান করে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দরপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার পর ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দরপত্র খোলা হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও দরদাতারা।
তবে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকদের অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, একজন দরদাতা সর্বোচ্চ ১০ একর জমি লিজ নিতে পারবেন। কোনো দরদাতা ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলে মিল কর্তৃপক্ষ ১০ একরের বেশি জমি লিজ না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তা কমিয়ে ১০ একর দেওয়ার সুযোগ রাখে। কিন্তু বাস্তবে ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র ক্রয় ও অংশগ্রহণকারী কৃষকদের সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশ্ন, ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলেই যদি পুরো দরপত্র বাতিল হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে বিজ্ঞপ্তিতেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল। তাদের দাবি, এ কারণে অনেক কৃষক সর্বোচ্চ দর দিয়েও লিজ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, অনেক কৃষক জমির জন্য সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন। অথচ তাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দর দেওয়া ব্যক্তিকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের। কেন সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাদের লিজ দেওয়া হলো এবং এর পেছনে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা গত ০১ অক্টোবর জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা দাবি করেন টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাগজপত্র ও দরপত্র মূল্যায়ন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রেখে সম্পূর্ণ টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় নতুন করে টেন্ডার আহ্বান জানান।
কৃষকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শুভাস চন্দ্র সিংহ। তিনি বলেন, শুধু মাত্র একটি জায়গায় ভুল হয়েছে, বাকি সব বিষয় ঠিক ছিল। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।




















