হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা:
“শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াই: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নত করা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় মাধখলা কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শায়খুল ইসলাম নোমান পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত পেশ করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিক্ষকরা হলেন জাতির আসল কারিগর। একটি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশই পারে আগামী প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। পাঠদানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।” এ সময় ইউএনও তাঁর নিজ শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং উপজেলার শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।
আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও বর্তমান শিক্ষার চিত্র তুলে ধরে আলোকপাত করে।অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষা: হোসেনপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক কামরুল ইসলাম বলেন, “পরিবারের অভাব-অনটন মাথায় নিয়ে শিক্ষকের পক্ষে শতভাগ মনোযোগ দিয়ে পাঠদান করা সম্ভব নয়। একটি সুশিক্ষিত ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত হলো শিক্ষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।বেতন বৈষম্য নিরসন: হোসেনপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর মাঝে যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। এই বৈষম্য দূর না হলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে।”পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান: অনুষ্ঠানের উপস্থাপক লুৎফর রহমান আরিফ বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা জজ হওয়ার স্বপ্নে সীমিত না রেখে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখার মতো সামাজিক সম্মান ও পরিবেশ তৈরি করতে হবে।নৈতিকতা ও পারস্পরিক মেলবন্ধন: হোসেনপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক শিক্ষার প্রসারে জোর দেন। অপরদিকে, হোসেনপুর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবিএম চঞ্চল বলেন, “শিক্ষকদের মধ্যকার পারস্পরিক সহানুভূতি, সৌহার্দ্য ও মেলবন্ধনই পারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গতিশীল ও মানসম্মত করতে।”
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের পেশাগত সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে হোসেনপুরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




















