বাগেরহাট (রামপাল) প্রতিনিধি : আরিফ হাসান গজনবী
বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুই ইউনিট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় চালুর পর দুই ইউনিট একসঙ্গে পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদনে ফিরেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রটির প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট থেকে যৌথভাবে এই রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, সম্প্রতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দুটি ইউনিট থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১০ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করে। যৌথ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত হয় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ৫ নম্বর রাজনগর ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৩৪ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট’। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ কেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে।
দুই ইউনিট একসঙ্গে চালু হওয়ার পর সর্বশেষ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদনকে কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ যৌথ উৎপাদন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে।



















