তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
প্রায়শই দায়িত্বে অবহেলার অপরাধে সম্প্রতি অপসারিত ও ওএসডি হওয়া মৌলভীবাজারের বিতর্কিত সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের বিদায়ের পরপরই বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির এক অবিশ্বাস্য চিত্র উন্মোচিত হয়েছে মৌলভীবাজারে। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে জেলার ১৩৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অলৌকিকভাবে লাইসেন্স নবায়ন ও অনুমোদন দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে জেলার ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪৫টি (১১টি হাসপাতাল ও ৩৪টি ডায়াগনস্টিক) লাইসেন্স হালনাগাদ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে চার মাসের ব্যবধানে সেই সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৪টিতে। অন্যদিকে, পুরো জেলায় মাত্র ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘অনুমোদনহীন’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, কোনো প্রকার সরেজমিন পরিদর্শন, অবকাঠামোগত সুবিধা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিংবা পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির যাচাই-বাছাই ছাড়াই অসাধু উপায়ে ও মোটা অঙ্কের আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব অনুমোদন বিলি করা হয়েছে।
এমনকি খাতায়-কলমে অবৈধ দেখানো ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও মৌলভীবাজার শহরের ‘সোনার বাংলা কিডনি ফাউন্ডেশন’ ও ‘সূর্যের আলো হাসপাতাল’-এর মতো প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সদরের শেরপুর এলাকার আরহাম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কিউর ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং শেরপুর ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
অনিয়মের বিষয়ে সদ্য ওএসডি হওয়া সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের বক্তব্য আরও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “শতভাগ নিয়মনীতি মেনে ধরলে জেলার একটি প্রতিষ্ঠানও লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য নয়।” অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, অসাধু প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকেরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ে চলায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো চাপে পড়তে হতো।
উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্দেশে ডা. মামুনুর রহমানকে ওএসডি করা হয় এবং ডা. মো. জাকির
হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, এই বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ার পেছনে কী পরিমাণ অনিয়ম ও অর্থ লেনদেন হয়েছে, তা অবিলম্বে বিচারবিভাগীয় তদন্তের আওতায় এনে ভুয়া ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।



















