ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই—দুর্ভোগে নিকলীর চার গ্রামের মানুষ

ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই—দুর্ভোগে নিকলীর চার গ্রামের মানুষ

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলী সদর ইউনিয়নের ষাইটধার, সিতারামপুর, গোবিন্দপুর ও গাবতলা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংযোগ সড়কের অভাব। স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে কয়েক বছর আগে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও এখনো ব্রিজটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ ব্যয় হলেও এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিকলী সদর ইউনিয়নের চামারটুলা-সিতারামপুরের মংলা বাড়ির খালের ওপর সিদ্দিকের বাড়ির পাশে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৪ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ছিল ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৪ টাকা ৩০ পয়সা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল রাজিব ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. শাহাদাৎ হোসেন (রাজিব)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এতে ব্রিজটি থাকলেও স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পানিতে চলাচলের পথ তলিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের উদ্যোগে তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হওয়ার সময় কাদাপানিতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে স্কুলের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কারও মৃত্যুর পর মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষকরাও উৎপাদিত ফসল বাজারজাত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রিজ আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। ব্রিজটি নির্মাণের পরও আমরা এর সুফল পাচ্ছি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা বড় কোনো দাবি করছি না। শুধু একটি ভালো ও চলাচলযোগ্য সংযোগ সড়ক চাই। রাস্তা নির্মাণ করা হলে ব্রিজটি এলাকার মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে উপকারী হবে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও ষাইটধার, সিতারামপুরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষকে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক না থাকায় পুরো প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবি, ষাইটধার, সিতারামপুর, গোবিন্দপুর ও গাবতলা গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে দ্রুত ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগকারী সড়ক নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে যাতে সড়কটি পানিতে তলিয়ে না যায়, সে জন্য উঁচু ও টেকসই সড়ক নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের। নির্মিত ব্রিজটি যেন শেষ পর্যন্ত মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক যাতায়াতের কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়, সেটিই তাদের দাবি।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
আখতারুজ্জামানের নিজ এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া কেউ বলছেন সাহসী, কারও মতে ‘দন্তহীন বাঘ’

আখতারুজ্জামানের নিজ এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া কেউ বলছেন সাহসী, কারও মতে ‘দন্তহীন বাঘ’

ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই—দুর্ভোগে নিকলীর চার গ্রামের মানুষ

আপডেট সময় : ০২:০১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলী সদর ইউনিয়নের ষাইটধার, সিতারামপুর, গোবিন্দপুর ও গাবতলা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংযোগ সড়কের অভাব। স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে কয়েক বছর আগে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও এখনো ব্রিজটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ ব্যয় হলেও এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিকলী সদর ইউনিয়নের চামারটুলা-সিতারামপুরের মংলা বাড়ির খালের ওপর সিদ্দিকের বাড়ির পাশে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৪ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ছিল ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৪ টাকা ৩০ পয়সা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল রাজিব ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. শাহাদাৎ হোসেন (রাজিব)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এতে ব্রিজটি থাকলেও স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পানিতে চলাচলের পথ তলিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের উদ্যোগে তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হওয়ার সময় কাদাপানিতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে স্কুলের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কারও মৃত্যুর পর মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষকরাও উৎপাদিত ফসল বাজারজাত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রিজ আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। ব্রিজটি নির্মাণের পরও আমরা এর সুফল পাচ্ছি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা বড় কোনো দাবি করছি না। শুধু একটি ভালো ও চলাচলযোগ্য সংযোগ সড়ক চাই। রাস্তা নির্মাণ করা হলে ব্রিজটি এলাকার মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে উপকারী হবে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও ষাইটধার, সিতারামপুরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষকে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক না থাকায় পুরো প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবি, ষাইটধার, সিতারামপুর, গোবিন্দপুর ও গাবতলা গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে দ্রুত ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগকারী সড়ক নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে যাতে সড়কটি পানিতে তলিয়ে না যায়, সে জন্য উঁচু ও টেকসই সড়ক নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের। নির্মিত ব্রিজটি যেন শেষ পর্যন্ত মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক যাতায়াতের কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়, সেটিই তাদের দাবি।