পাবনা প্রতিনিধি
অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামবাহী লরিবহর পাবনার রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
রূপপুর প্রকল্পের সাইট অফিসের ইনচার্জ মো. রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশে আসা ইউরেনিয়ামের এটি দ্বিতীয় চালান।
রূপপুর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে সড়কপথে টঙ্গী, সাভার, গাজীপুর, বাইপাইল, টাঙ্গাইল পার হয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বহরটি সিরাজগঞ্জ যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাঁচলিয়ার আন্তঃনগর ট্রাক বিশ্রামাগারে পৌঁছে যাত্রাবিরতি করে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বিরতি শেষে আবারও রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয় বহরটি।
এরপর সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, নাটোরের বনপাড়া থেকে পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে শনিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামবাহী লরিবহর। এ সময় সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পাবনার রূপপুর থেকে দাশুড়িয়া মোড় পর্যন্ত কিছু সময়ের জন্য সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ইউরেনিয়ামের গাড়িবহর রূপপুরে পৌঁছার পররপরই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রূপপুর প্রকল্প সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় এই ইউরেনিয়ামের চালান। বিমানবন্দর থেকে খালাস, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় সড়কপথে লরিগুলো পাবনার রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও গাইডলাইন অনুসরণ করে এই পারমাণবিক জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশেষ শেডে সংরক্ষণ করা হবে। সাধারণত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তন করতে হয়। প্রথম ইউনিটের সেই বাড়তি জ্বালানিই এখন বাংলাদেশে আসছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান আসাদ জানান, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারসহ সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সড়ক পথে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়ামবাহি গাড়িবহর ঠিকমত এসে পৌঁছেছে। ইউরেনিয়াম আসা নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ও রূপপুর এলাকা এবং দাশুড়িয়া-বনপাড়া মহাসড়কের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ৯টি চালানে ২০০টিরও বেশি জ্বালানি অ্যাসেম্বল আনা হচ্ছে, যার সবকটি সরবরাহ সম্পন্ন হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই।
প্রকল্প সূত্র জানায়, রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের এই চালান দেশে আসবে। এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের যে জ্বালানি আনা হয়েছিল তা চলতি বছরের মে মাসে রূপপুর প্রকল্পের পারমাণবিক চুল্লিতে বসানো হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রের দাবি, সেফটি ভালভে ১৬ মেগাপ্যাসকেল (এমপিএ) উচ্চ-চাপ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পরবর্তী ধাপে ১৮ এমপিএ চাপে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। এটি সফল হওয়ার পর ফিশন রিয়্যাকশন শুরু করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষে পাওয়ার স্টার্টআপে যেতে পুরো অক্টোবর মাস লেগে যাবে। আর পাওয়ার স্টার্টআপের পরেই গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়টি আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের



















