স্বজনদের আহাজারিতে বেদনাতুর পরিবেশ, স্বান্তনা দেবার ভাষা নেই কারও! 

স্বজনদের আহাজারিতে বেদনাতুর পরিবেশ, স্বান্তনা দেবার ভাষা নেই কারও! 

রাজন্য রুহানি, জামালপুর :

ময়মনসিংহে রাজীব বাসচাপায় নিহত জামালপুরের ৭ ব্যক্তির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও স্বজনদের আহাজারিতে সৃষ্টি হয়েছে এক বেদনাতুর পরিবেশ। স্বজনদের গগনবিদারী চিৎকার, কান্না ও গ্রামের মানুষদের আফসোসে ভারি হয়ে উঠেছে এখানকার বাতাস। এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন লোকের মৃত্যু যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেনা নিহতদের পরিবার।

নিহত সাতজনের বাড়িই জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামে। এদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন। ছিলেন গর্ভবতী নারীও।

একই পরিবারের নিহত চারজনের বাড়িতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। চারটি খাটিয়ায় পাশাপাশি রাখা চারজনের মৃতদেহ, এর আগে এমন পীড়াদায়ক দৃশ্য দেখেনি এই গ্রামের কেউ! যারাই মৃতদেহ দেখতে এসেছেন, তারাই ভেসেছেন নিদারুণ কান্নায়। কারো কারো মুখে ছিল আফসোসের বুলি আর হাহাকারমিশ্রিত ধ্বনি!

২ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি  সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাতজন।

নিহতদের মধ্যে জামালপুর সদরের দড়িহামিদপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তাঁর মা রাশিদা বেগম (৭৫), অন্তঃস্বত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও পাঁচ বছরের নাতি মিনাল রয়েছেন। এছাড়া নিহত হয়েছেন সিএনজিচালক একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী। অপর দু’জন শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

৩ অক্টোবর শনিবার সকালে পৃথক স্থানে জানাজা শেষে পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে নিহতদের দাফন করা হয়। জানাজায় শরিক হন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।

এদিকে, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে জামালপুর শহরে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল করেছে যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তি। রাজীব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, বাস চলাচল বন্ধ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবিতে তারা এ গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল করে।

হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

উল্লেখ্য, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। মা, মেয়ে ও নাতিকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আগের দিন বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তারা। নান্দিনা বাজার থেকে সিএনজিতে করে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রাজিব বাসের চাপায় নিহত হন তারা। তাদের সঙ্গে থাকা অপর যাত্রীরাও এ দুর্ঘটনায় নিহত হন।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
নেত্রকোনায় ৭ বছরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৭৯ জনের,নেই শক্তিশালী পদক্ষেপ 

নেত্রকোনায় ৭ বছরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৭৯ জনের,নেই শক্তিশালী পদক্ষেপ 

স্বজনদের আহাজারিতে বেদনাতুর পরিবেশ, স্বান্তনা দেবার ভাষা নেই কারও! 

আপডেট সময় : ০২:৪৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজন্য রুহানি, জামালপুর :

ময়মনসিংহে রাজীব বাসচাপায় নিহত জামালপুরের ৭ ব্যক্তির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও স্বজনদের আহাজারিতে সৃষ্টি হয়েছে এক বেদনাতুর পরিবেশ। স্বজনদের গগনবিদারী চিৎকার, কান্না ও গ্রামের মানুষদের আফসোসে ভারি হয়ে উঠেছে এখানকার বাতাস। এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন লোকের মৃত্যু যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেনা নিহতদের পরিবার।

নিহত সাতজনের বাড়িই জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামে। এদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন। ছিলেন গর্ভবতী নারীও।

একই পরিবারের নিহত চারজনের বাড়িতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। চারটি খাটিয়ায় পাশাপাশি রাখা চারজনের মৃতদেহ, এর আগে এমন পীড়াদায়ক দৃশ্য দেখেনি এই গ্রামের কেউ! যারাই মৃতদেহ দেখতে এসেছেন, তারাই ভেসেছেন নিদারুণ কান্নায়। কারো কারো মুখে ছিল আফসোসের বুলি আর হাহাকারমিশ্রিত ধ্বনি!

২ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি  সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাতজন।

নিহতদের মধ্যে জামালপুর সদরের দড়িহামিদপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তাঁর মা রাশিদা বেগম (৭৫), অন্তঃস্বত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও পাঁচ বছরের নাতি মিনাল রয়েছেন। এছাড়া নিহত হয়েছেন সিএনজিচালক একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী। অপর দু’জন শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

৩ অক্টোবর শনিবার সকালে পৃথক স্থানে জানাজা শেষে পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে নিহতদের দাফন করা হয়। জানাজায় শরিক হন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।

এদিকে, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে জামালপুর শহরে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল করেছে যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তি। রাজীব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, বাস চলাচল বন্ধ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবিতে তারা এ গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল করে।

হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

উল্লেখ্য, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। মা, মেয়ে ও নাতিকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আগের দিন বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তারা। নান্দিনা বাজার থেকে সিএনজিতে করে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রাজিব বাসের চাপায় নিহত হন তারা। তাদের সঙ্গে থাকা অপর যাত্রীরাও এ দুর্ঘটনায় নিহত হন।