রূপপুর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কেউ নাম প্রকাশে রাজী হননি। সূত্র আরো জানায়, ভোররাত চারটার দিকে ঢাকা থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়ি সড়ক পথে রূপপুর প্রকল্পের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যে রূপপুরে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, জ্বালানিবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রূপপুরে নেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়ামের চালানটি রূপপুরে পৌঁছাবে।
আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ৯টি ফ্লাইটে দেশে আসবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ৪৮টি ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের এই চালান দেশে আসবে।
এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি এসেছিল। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে বসানো হয়েছে।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, এই পরীক্ষা প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ উভয় স্থান থেকেই পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষায় কন্ট্রোল ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ভালভগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভ এর কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও যাচাই করা হয়। এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তিনি বলেন, পিআরওভি পরীক্ষার সফল সমাপ্তিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থাটি সরাসরি সম্পৃক্ত।
সেফটি ভালভে ১৬ মেগাপ্যাসকেল (এমপিএ) উচ্চ-চাপ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ এমপিএ চাপে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। এটি সফল হওয়ার পর ফিশন রিয়্যাকশন শুরু করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষে পাওয়ার স্টার্টআপে যেতে পুরো অক্টোবর মাস লেগে যাবে। আর পাওয়ার স্টার্টআপের পরেই গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়টি আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আশা করা হচ্ছে আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই স্বপ্নের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত মোট বিদ্যুৎ ক্ষমতার ৩০ শতাংশ বা ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।



















