পানি নামছে, জেগে উঠছে সিংপুরের সড়ক; নৌকানির্ভর জীবন থেকে ফিরছে মানুষ

পানি নামছে, জেগে উঠছে সিংপুরের সড়ক; নৌকানির্ভর জীবন থেকে ফিরছে মানুষ

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ১ নম্বর সিংপুর ইউনিয়ন হাওরবেষ্টিত একটি জনপদ। বর্ষা মৌসুমে হাওরের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। তবে এখন পানি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে জেগে উঠছে সড়কগুলো। কোথাও রাস্তা শুকিয়ে গেছে, আবার কোথাও রয়েছে হালকা পানি। এতে সড়কপথে মানুষের চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর আষাঢ় মাস থেকে হাওরে পানি বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে সিংপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। এ অবস্থা কার্তিক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বর্ষার কয়েক মাস নৌকায় চলাচল করাই হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা।

পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই ব্যাহত হয় না, প্রভাব পড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। স্কুল-কলেজে যাতায়াত, বাজার করা, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় কাজে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় বাসিন্দাদের।

হাওরবেষ্টিত ও যোগাযোগে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সিংপুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাজারব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ে। স্থানীয়ভাবে প্রতি রোববার সাপ্তাহিক বাজার বসে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে নিকলী উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকা থেকে নৌপথে পণ্য নিয়ে বিক্রেতাদের অনেকেই এখানে আসতে অনাগ্রহী থাকেন। ফলে স্থানীয় বাজারের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় তাঁদের।

তবে প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই মানিয়ে নিয়েছেন সিংপুরের মানুষ। বর্ষায় নৌকা তাঁদের চলাচলের পাশাপাশি জীবিকারও একটি মাধ্যম। কেউ নৌকায় যাত্রী পারাপার করে আয় করেন, কেউ হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। আবার পানি কমে গেলে হাওরের জমি চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত হয়। তখন কৃষিকাজে যুক্ত হন অনেকে।

এখন হাওরের পানি ধীরে ধীরে কমছে। কয়েক মাস পানির নিচে থাকা সড়কগুলোও একে একে দৃশ্যমান হচ্ছে। কোথাও শুকিয়ে যাওয়া রাস্তায় আবার মানুষের চলাচল শুরু হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে সড়কপথে যোগাযোগ আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিংপুরের মানুষের জীবন তাই হাওরের পানির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বর্ষায় নৌকা, আর পানি নেমে গেলে সড়ক ও কৃষিকাজ—প্রকৃতির এই চক্রের সঙ্গেই বছরের পর বছর জীবন ও জীবিকা চালিয়ে আসছেন তাঁরা।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
সতর্ক হোন, স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবারও একসাথে হয়েছে-  ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সতর্ক হোন, স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবারও একসাথে হয়েছে- ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পানি নামছে, জেগে উঠছে সিংপুরের সড়ক; নৌকানির্ভর জীবন থেকে ফিরছে মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:২৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ১ নম্বর সিংপুর ইউনিয়ন হাওরবেষ্টিত একটি জনপদ। বর্ষা মৌসুমে হাওরের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। তবে এখন পানি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে জেগে উঠছে সড়কগুলো। কোথাও রাস্তা শুকিয়ে গেছে, আবার কোথাও রয়েছে হালকা পানি। এতে সড়কপথে মানুষের চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর আষাঢ় মাস থেকে হাওরে পানি বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে সিংপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। এ অবস্থা কার্তিক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বর্ষার কয়েক মাস নৌকায় চলাচল করাই হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা।

পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই ব্যাহত হয় না, প্রভাব পড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। স্কুল-কলেজে যাতায়াত, বাজার করা, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় কাজে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় বাসিন্দাদের।

হাওরবেষ্টিত ও যোগাযোগে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সিংপুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাজারব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ে। স্থানীয়ভাবে প্রতি রোববার সাপ্তাহিক বাজার বসে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে নিকলী উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকা থেকে নৌপথে পণ্য নিয়ে বিক্রেতাদের অনেকেই এখানে আসতে অনাগ্রহী থাকেন। ফলে স্থানীয় বাজারের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় তাঁদের।

তবে প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই মানিয়ে নিয়েছেন সিংপুরের মানুষ। বর্ষায় নৌকা তাঁদের চলাচলের পাশাপাশি জীবিকারও একটি মাধ্যম। কেউ নৌকায় যাত্রী পারাপার করে আয় করেন, কেউ হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। আবার পানি কমে গেলে হাওরের জমি চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত হয়। তখন কৃষিকাজে যুক্ত হন অনেকে।

এখন হাওরের পানি ধীরে ধীরে কমছে। কয়েক মাস পানির নিচে থাকা সড়কগুলোও একে একে দৃশ্যমান হচ্ছে। কোথাও শুকিয়ে যাওয়া রাস্তায় আবার মানুষের চলাচল শুরু হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে সড়কপথে যোগাযোগ আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিংপুরের মানুষের জীবন তাই হাওরের পানির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বর্ষায় নৌকা, আর পানি নেমে গেলে সড়ক ও কৃষিকাজ—প্রকৃতির এই চক্রের সঙ্গেই বছরের পর বছর জীবন ও জীবিকা চালিয়ে আসছেন তাঁরা।