আজও কেঁদে কেঁদে ছেলেকে খুঁজে ফেরেন রামগঞ্জের শহীদ রাকিবের মমতাময়ী মা পারভীন বেগম

আজও কেঁদে কেঁদে ছেলেকে খুঁজে ফেরেন রামগঞ্জের শহীদ রাকিবের মমতাময়ী মা পারভীন বেগম
মোঃ মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)  প্রতিনিধিঃ
আজও রাত দিন কেঁদে কেঁদে খুঁজে ফেরেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রামগঞ্জের শহীদ রাকিবের মমতাময়ী মা পারভীন বেগম।তার ধারনা রাকিব আবার আসবে। রাকিব স্কুলে গেছে। , জনে জনে ধরে জিজ্ঞেসা করে তোমরা আমার রাকিবকে দেখেছো? রাকিব কখন আসবে?  রাকিব আসে না কেন?  আজকে ওর এত দেরী হচ্ছে কেন?  ইত্যাদি প্রশ্নবানে জর্জরিত করে তোলেন নতুন কাউকে দেখলে।আজও রাত দিন কেঁদে কেঁদে খুঁজে বেড়ায় রাকিবকে।রাকিবের শোকে তিনি পাথর হয়ে পড়েছেন।
 শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা না দিতেই
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হন মোঃ রাকিব হোসেন। সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র, মাত্র ১২ বছর বয়সেই দেশের জন্য জীবন দিয়ে শহীদ হন রাকিব।
গতকাল রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়ণপুর মাল গাজী রাকিবদের বাড়ীতে গেলে রাকিবের মা পারভীন বেগমের  এমন আহাজারির  দৃশ্য চোখে পরে।রাকিব ঢাকার আই টি জেড স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ছিল । গত ২০২৪ ইং সনের জুলাই আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১৯ জুলাই  স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ  সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশের বুলেট বিদ্ধ হয়ে মারা যায় রাকিব। ১৯ জুলাই বিকেল বেলা অন্যান্য বন্ধুদের সাথে  ঢাকার মোহাম্মদ পুর ক্লাব মাঠে খেলতে যায় রাকিব ।বিকেল বেলা প্রচন্ড গোলাগুলি শুরু হলে রাকিব মাঠের পাশে একটি গাছের পাশে আশ্রয় নেয়,কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না পিছন দিক থেকে একটা বুলেট এসে বিদ্ধ হয় তার মাথায়। সাথে থাকা বন্ধুরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাকিব মাটিতে লুটিয়ে  পড়ে যায় ।হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাকিব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তারপর ও মনকে শান্তনা দেওয়ার জন্য রাকিবের বাবা আবুল খায়ের ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  রাকিবরা থাকতো ঢাকার  মোহাম্মদ পুরে। বাবা আবুল খায়ের ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের লাইন ম্যানের কাজ করেন, সেই সুবাদেই তাদের  ঢাকায় থাকা। রাকিবের বাবা আবুল খায়ের জানান রাকিব অনেক মেধাবী ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন ছিল। রাকিবের ওপর আমাদের অনেক আশা ভরসা ছিল। কিন্তু সেই আশা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার ধূলিসাৎ করে দিলো।রাকিবকে হারিয়ে আমরা পাগল হয়ে যাই।রাকিবের মা এখনো পাগলপ্রায়।
 তবে বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটা দা্বী আছে তা হলো রাকিবের বড় ভাই আবু রায়হান বিএ অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র   সরকার যদি তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে আমরা সরকারের নিকট কৃতজ্ঞ থাকবো।  রাকিবরা ছিল  ২ভাই ১বোন।রাকিব ছিল সবার ছোট।
আমাদের সবার প্রত্যাশা  হোক আর কোন স্বৈরাচারের কবলে পরে রাকিবের মতো যেন আর কোন মায়ের বুক  খালি না হয়।
ট্যাগ
জনপ্রিয়
সতর্ক হোন, স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবারও একসাথে হয়েছে-  ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সতর্ক হোন, স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবারও একসাথে হয়েছে- ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজও কেঁদে কেঁদে ছেলেকে খুঁজে ফেরেন রামগঞ্জের শহীদ রাকিবের মমতাময়ী মা পারভীন বেগম

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
মোঃ মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)  প্রতিনিধিঃ
আজও রাত দিন কেঁদে কেঁদে খুঁজে ফেরেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রামগঞ্জের শহীদ রাকিবের মমতাময়ী মা পারভীন বেগম।তার ধারনা রাকিব আবার আসবে। রাকিব স্কুলে গেছে। , জনে জনে ধরে জিজ্ঞেসা করে তোমরা আমার রাকিবকে দেখেছো? রাকিব কখন আসবে?  রাকিব আসে না কেন?  আজকে ওর এত দেরী হচ্ছে কেন?  ইত্যাদি প্রশ্নবানে জর্জরিত করে তোলেন নতুন কাউকে দেখলে।আজও রাত দিন কেঁদে কেঁদে খুঁজে বেড়ায় রাকিবকে।রাকিবের শোকে তিনি পাথর হয়ে পড়েছেন।
 শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা না দিতেই
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হন মোঃ রাকিব হোসেন। সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র, মাত্র ১২ বছর বয়সেই দেশের জন্য জীবন দিয়ে শহীদ হন রাকিব।
গতকাল রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়ণপুর মাল গাজী রাকিবদের বাড়ীতে গেলে রাকিবের মা পারভীন বেগমের  এমন আহাজারির  দৃশ্য চোখে পরে।রাকিব ঢাকার আই টি জেড স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ছিল । গত ২০২৪ ইং সনের জুলাই আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১৯ জুলাই  স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ  সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশের বুলেট বিদ্ধ হয়ে মারা যায় রাকিব। ১৯ জুলাই বিকেল বেলা অন্যান্য বন্ধুদের সাথে  ঢাকার মোহাম্মদ পুর ক্লাব মাঠে খেলতে যায় রাকিব ।বিকেল বেলা প্রচন্ড গোলাগুলি শুরু হলে রাকিব মাঠের পাশে একটি গাছের পাশে আশ্রয় নেয়,কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না পিছন দিক থেকে একটা বুলেট এসে বিদ্ধ হয় তার মাথায়। সাথে থাকা বন্ধুরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাকিব মাটিতে লুটিয়ে  পড়ে যায় ।হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাকিব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তারপর ও মনকে শান্তনা দেওয়ার জন্য রাকিবের বাবা আবুল খায়ের ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  রাকিবরা থাকতো ঢাকার  মোহাম্মদ পুরে। বাবা আবুল খায়ের ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের লাইন ম্যানের কাজ করেন, সেই সুবাদেই তাদের  ঢাকায় থাকা। রাকিবের বাবা আবুল খায়ের জানান রাকিব অনেক মেধাবী ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন ছিল। রাকিবের ওপর আমাদের অনেক আশা ভরসা ছিল। কিন্তু সেই আশা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার ধূলিসাৎ করে দিলো।রাকিবকে হারিয়ে আমরা পাগল হয়ে যাই।রাকিবের মা এখনো পাগলপ্রায়।
 তবে বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটা দা্বী আছে তা হলো রাকিবের বড় ভাই আবু রায়হান বিএ অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র   সরকার যদি তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে আমরা সরকারের নিকট কৃতজ্ঞ থাকবো।  রাকিবরা ছিল  ২ভাই ১বোন।রাকিব ছিল সবার ছোট।
আমাদের সবার প্রত্যাশা  হোক আর কোন স্বৈরাচারের কবলে পরে রাকিবের মতো যেন আর কোন মায়ের বুক  খালি না হয়।