দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্ক লালমনিরহাট পুলিশ, মণ্ডপে সিসিটিভির নির্দেশনা, ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বাড়বে পুলিশ

দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্ক লালমনিরহাট পুলিশ, মণ্ডপে সিসিটিভির নির্দেশনা, ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বাড়বে পুলিশ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে লালমনিরহাটের পাঁচ থানার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং শতভাগ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের আয়োজনে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
সভায় প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং গুজব প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের মাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যাতে পূজামণ্ডপের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশ সুপার প্রতিটি পূজামণ্ডপকে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য মন্দির ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিরাপদ রাখা এবং কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, পূজার সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট থানা বা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জানাতে হবে। এতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যা ও মতামত তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইভটিজিং ও মাদক প্রতিরোধ এবং যেকোনো ধরনের উসকানি ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ট্যাগ
জনপ্রিয়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত

দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্ক লালমনিরহাট পুলিশ, মণ্ডপে সিসিটিভির নির্দেশনা, ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বাড়বে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে লালমনিরহাটের পাঁচ থানার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং শতভাগ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের আয়োজনে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
সভায় প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং গুজব প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের মাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যাতে পূজামণ্ডপের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশ সুপার প্রতিটি পূজামণ্ডপকে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য মন্দির ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিরাপদ রাখা এবং কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, পূজার সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট থানা বা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জানাতে হবে। এতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যা ও মতামত তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইভটিজিং ও মাদক প্রতিরোধ এবং যেকোনো ধরনের উসকানি ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।