তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে বুধবার স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেন। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইছবপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৩১), চাঁনপুর এলাকার জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) ও রিটি এলাকার আল আমিন ইসলাম (২০)। তারা বর্তমানে শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন বলে এজাহার সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওই কিশোরী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোডে গৃহপরিচারিকার কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে আসামিরা একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে এসে তার পথরোধ করেন। পরে জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ইছবপুর এলাকায় দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে পরদিন সকাল সাতটা পর্যন্ত আসামিরা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টার দিকে কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খবর পেয়ে রেলস্টেশন থেকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগলেও ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আবদুর রাজ্জাককে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে। বুধবার অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

















