আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং জেলার ১৩টি উপজেলার ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা নাশকতা না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ এবং আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ একা নয়; পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারের পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। কোনো মণ্ডপে সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় ধর্মীয় নেতারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। বিশেষ করে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।
পুলিশ সুপার ধর্মীয় নেতাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।




















