আনোয়ারুল ইসলাম রনি রংপুর:
রংপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. সিয়াম শেখকে চাঁদাবাজির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আটক ও গণপিটুনি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে গণপিটুনির পর ওই ছাত্রদল নেতাকে কলা খাওয়াতেও দেখা যায়।
ঘটনাটি গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর নগরীর রাধাবল্লভ এলাকার একটি ছাত্রাবাসে ঘটে বলে জানা গেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর সরকারি সিটি কলেজের তিন শিক্ষার্থী রংপুর সরকারি কলেজ মাঠে ক্রিকেট খেলা শেষে মেসে ফেরার সময় সেখানে মো. সিয়াম শেখের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। এ সময় নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে তাদের গাঁজাসহ আটক করার ভয় দেখানো হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিন শিক্ষার্থীর কাছে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দাবিকৃত অর্থ কমিয়ে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এতেও রাজি না হওয়ায় তাদের পকেট তল্লাশি করা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বিকাশের ব্যালেন্সও যাচাই করা হয় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। সেখানে টাকা না পাওয়ায় কয়েকজন মিলে দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয় এবং অপর একজনকে সঙ্গে নিয়ে রাধাবল্লভ এলাকার গণি ছাত্রাবাসের পঞ্চম তলায় যাওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সেখান থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তাদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকে। ফোন করে জানানো হয়, ওই ১ হাজার টাকা দুইজন ভাগ করে নিয়েছে, তাই আরও টাকা প্রয়োজন। এমনকি বাবা-মায়ের কাছ থেকেও টাকা এনে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বলা হয় বলে অভিযোগ তাদের।
পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিয়াম শেখ আবার গণি ছাত্রাবাসে গেলে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয় বলে জানা গেছে। এ সময় খবর পেয়ে তার কয়েকজন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করে তাকে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার বিষয়ে রংপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান খান সুজন বলেন, “গত পরশুদিন রাধাবল্লভে একটি গ্যানজাম হয়েছিল। ওদের মধ্যে হয়তো সাবেক কোনো দ্বন্দ্ব ছিল। স্থানীয়রা ও সাবেক কাউন্সিলর টিটু ভাই দুই পক্ষকে শান্ত করেন। হয়তোবা আটক করে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেছে। ওই পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে চাঁদাবাজি করতে গেছে—১ হাজার বা ২ হাজার টাকা। আমরা মহানগর ছাত্রদল আজকে পার্টি অফিসে একটি জরুরি মিটিং ডাকছি। ওই মিটিং থেকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে।”
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই আরাফাত বলেন, “রাধাবল্লভে মেসের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, সিয়াম নামে একজন টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল। আমরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। থানায় কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় আমরা আর কোনো তদন্ত করিনি। এ বিষয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছেন ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।”
রংপুর মহানগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহমুদার রহমান টিটু বলেন, “মেসের ছেলের কাছে মেসে টাকা চাইতে গিয়েছিল হনুমানতলার কিছু ছেলে। পরে মেসের ছেলেপেলে আটকাইছে। পরবর্তীতে এদের লোকজন যখন গেছে, তখন এলাকার লোকজন সবাই জানছে। আমি যখন গিয়েছি, তখন এলাকার ছেলেপেলে সব চলে গেছে।”
এদিকে, ঘটনার পর সিয়াম শেখকে রংপুর মহানগর ছাত্রদলের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রংপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান খান সুজনের স্বাক্ষরিত একটি বহিষ্কারাদেশে এ তথ্য দেখা গেছে।
বহিষ্কারাদেশে সিয়াম শেখের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।




















