নরসুন্দা নদীর বিভিন্ন অংশ দখলের অভিযোগ, ভয়ে নাম বলছেন না স্থানীয়রা

নরসুন্দা নদীর বিভিন্ন অংশ দখলের অভিযোগ, ভয়ে নাম বলছেন না স্থানীয়রা

আল-আমিন হাসান নিকলী, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর বিভিন্ন অংশ দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী খননের পর এর বিভিন্ন অংশ বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এতে নদীর ওপর নির্ভরশীল আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসুন্দা নদীর ধুবাচূড়া গুনা পর্যন্ত অংশ সরকারের পক্ষ থেকে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদীটির খননকাজ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খননকাজ শেষ হওয়ার পর নানশ্রী গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নদীর বড় একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গৈবরভিটা জামে মসজিদসংলগ্ন নদীর অংশেও বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। এতে নদীর ওই অংশে সাধারণ মানুষের ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নদীসংলগ্ন ইন্দ্রাচল্লি, কন্ডপখালী, আগলা বাড়ি ও গৈবরভিটা এলাকার বাসিন্দারা বলেন, আগে নদীটি মাছ ধরা, গবাদিপশু গোসল করানো এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন তাঁরা। বর্তমানে নদীর বিভিন্ন অংশে প্রতিবন্ধকতা থাকায় এসব কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রকাশ্যে তাঁদের ভোগান্তির কথা বললেও নদী দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম বলতে রাজি হননি। তাঁদের ভাষ্য, নাম প্রকাশ করলে তাঁরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই তাঁরা প্রশাসনের কাছে নদীটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা নদীটি আগের মতো ব্যবহার করতে চাই। কিন্তু যারা দখলের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের নাম বলতে ভয় হয়। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিলে আমরা উপকৃত হব।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরা, গবাদিপশু গোসল করানোসহ স্বাভাবিক কাজেও বাধা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, নদীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন অংশ দখলে থাকায় সাধারণ মানুষের ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থে খনন করা নদীর সুফল থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা নরসুন্দা নদী দখলের অভিযোগ তদন্ত করে দখলকৃত অংশ উন্মুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের নদী ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা জেলা প্রশাসন, নিকলী উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা নদী দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ফলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
বগুড়া আদালতে দ্বন্দ্বের মাশুল বিচারপ্রার্থীদের—ঝুলে থাকা মামলা নিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক হোক বিচারিক কার্যক্রম

বগুড়া আদালতে দ্বন্দ্বের মাশুল বিচারপ্রার্থীদের—ঝুলে থাকা মামলা নিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক হোক বিচারিক কার্যক্রম

নরসুন্দা নদীর বিভিন্ন অংশ দখলের অভিযোগ, ভয়ে নাম বলছেন না স্থানীয়রা

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আল-আমিন হাসান নিকলী, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর বিভিন্ন অংশ দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী খননের পর এর বিভিন্ন অংশ বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এতে নদীর ওপর নির্ভরশীল আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসুন্দা নদীর ধুবাচূড়া গুনা পর্যন্ত অংশ সরকারের পক্ষ থেকে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদীটির খননকাজ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খননকাজ শেষ হওয়ার পর নানশ্রী গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নদীর বড় একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গৈবরভিটা জামে মসজিদসংলগ্ন নদীর অংশেও বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। এতে নদীর ওই অংশে সাধারণ মানুষের ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নদীসংলগ্ন ইন্দ্রাচল্লি, কন্ডপখালী, আগলা বাড়ি ও গৈবরভিটা এলাকার বাসিন্দারা বলেন, আগে নদীটি মাছ ধরা, গবাদিপশু গোসল করানো এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন তাঁরা। বর্তমানে নদীর বিভিন্ন অংশে প্রতিবন্ধকতা থাকায় এসব কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রকাশ্যে তাঁদের ভোগান্তির কথা বললেও নদী দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম বলতে রাজি হননি। তাঁদের ভাষ্য, নাম প্রকাশ করলে তাঁরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই তাঁরা প্রশাসনের কাছে নদীটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা নদীটি আগের মতো ব্যবহার করতে চাই। কিন্তু যারা দখলের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের নাম বলতে ভয় হয়। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিলে আমরা উপকৃত হব।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরা, গবাদিপশু গোসল করানোসহ স্বাভাবিক কাজেও বাধা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, নদীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন অংশ দখলে থাকায় সাধারণ মানুষের ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থে খনন করা নদীর সুফল থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা নরসুন্দা নদী দখলের অভিযোগ তদন্ত করে দখলকৃত অংশ উন্মুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের নদী ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা জেলা প্রশাসন, নিকলী উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা নদী দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ফলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।