অষ্টগ্রামে চরম ভোগান্তিতে হাওরের কৃষক 

অষ্টগ্রামে চরম ভোগান্তিতে হাওরের কৃষক 
মোঃঝুটন মিয়া (অষ্টগ্রাম) কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইনে চলতি মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রায় ৮৫ শতাংশ কৃষক চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। মাঠ থেকে সোনালী ধান ঘরে তুলেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকরা। ফলে আগামী মৌসুমে জমি রোপণ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে ধানের দাম সেই তুলনায় বাড়েনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ধান বিক্রি করার মতো কোনো বেপারীই পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক বেপারী ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, এমনকি কেউ কেউ সরাসরি ধান কিনতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে না পেরে আরও বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে ধান দীর্ঘদিন গোলাঘরে সংরক্ষণ করে রাখার কারণে নতুন বিপদের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গোলায় রাখা ধান ইঁদুর, ভাতারি তিথি পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।
অষ্টগ্রামের একাধিক কৃষক জানান, “ধানের দাম ঠিক না থাকায় আমরা ধান বিক্রি করতে পারছি না। এখন আবার কোনো বেপারীও ধান কিনতে চাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ঘরে রেখে দিচ্ছি, কিন্তু তাতেও ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
একই ধরনের হতাশার কথা জানান মিঠামইন ও ইটনার কৃষকরাও। তারা বলেন, “এক মৌসুমে লোকসান হলে পরের মৌসুমে চাষ করা কঠিন হয়ে যায়। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, ধান বিক্রি করার পথই বন্ধ হয়ে গেছে।”
স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি দ্রুত ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হয়, বাজারে ক্রেতা সক্রিয় না হয় এবং কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বা সহায়তা না বাড়ানো হয়, তাহলে আগামী মৌসুমে হাওরাঞ্চলে চাষাবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বাংলাদেশে এতে খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারে বেপারীদের সক্রিয় করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা জরুরি। অন্যথায় হাওরের কৃষি ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
হাওরের কৃষক বাঁচলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টিকবে—এমন মন্তব্য করে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ট্যাগ
জনপ্রিয়
জামালপুর জেলা তথ্য বাতায়নের শতভাগ হালনাগাদের নির্দেশনা

জামালপুর জেলা তথ্য বাতায়নের শতভাগ হালনাগাদের নির্দেশনা

অষ্টগ্রামে চরম ভোগান্তিতে হাওরের কৃষক 

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মোঃঝুটন মিয়া (অষ্টগ্রাম) কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইনে চলতি মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রায় ৮৫ শতাংশ কৃষক চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। মাঠ থেকে সোনালী ধান ঘরে তুলেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকরা। ফলে আগামী মৌসুমে জমি রোপণ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে ধানের দাম সেই তুলনায় বাড়েনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ধান বিক্রি করার মতো কোনো বেপারীই পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক বেপারী ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, এমনকি কেউ কেউ সরাসরি ধান কিনতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে না পেরে আরও বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে ধান দীর্ঘদিন গোলাঘরে সংরক্ষণ করে রাখার কারণে নতুন বিপদের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গোলায় রাখা ধান ইঁদুর, ভাতারি তিথি পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।
অষ্টগ্রামের একাধিক কৃষক জানান, “ধানের দাম ঠিক না থাকায় আমরা ধান বিক্রি করতে পারছি না। এখন আবার কোনো বেপারীও ধান কিনতে চাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ঘরে রেখে দিচ্ছি, কিন্তু তাতেও ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
একই ধরনের হতাশার কথা জানান মিঠামইন ও ইটনার কৃষকরাও। তারা বলেন, “এক মৌসুমে লোকসান হলে পরের মৌসুমে চাষ করা কঠিন হয়ে যায়। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, ধান বিক্রি করার পথই বন্ধ হয়ে গেছে।”
স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি দ্রুত ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হয়, বাজারে ক্রেতা সক্রিয় না হয় এবং কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বা সহায়তা না বাড়ানো হয়, তাহলে আগামী মৌসুমে হাওরাঞ্চলে চাষাবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বাংলাদেশে এতে খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারে বেপারীদের সক্রিয় করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা জরুরি। অন্যথায় হাওরের কৃষি ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
হাওরের কৃষক বাঁচলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টিকবে—এমন মন্তব্য করে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।