ফরিদপুরে শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরের চুরি যাওয়া মালামাল সহ চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

ফরিদপুরে শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরের চুরি যাওয়া মালামাল সহ চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
বিপ্লব কুমার দাস,  ফরিদপুর থেকেঃ
ফরিদপুরে শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ছয় দিনের মাথায় মূল মূর্তিসহ চুরির মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে কুখ্যাত চোরচক্রের ৪ সদস্যকে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সাফল্যের তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের পেশাদার অপরাধী আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং চুরি করা স্বর্ণালংকার ক্রয় ও গলানোর অভিযোগে বোয়ালমারী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান।
যেভাবে ঘটেছিল চুরি
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে মন্দির তালাবদ্ধ করে যান সেবায়েত কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় তালা কেটে চুরি করা হয়েছে প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি (যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা), গায়ের ৫ ভরি স্বর্ণ (মূল্য প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা), ৩০ ভরি রৌপ্যালংকার ও পিতলের প্রতিমা। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তে নামে পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল।
ক্লু-লেস মামলার রহস্য ভেদ
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শুরুতে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের মূর্তি, সাজেদা বেগমের রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে অলংকার ও পিতলের মূর্তি এবং জুয়েলারি দোকান থেকে অলংকার গলিয়ে তৈরি করা আট আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ ১০টি এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে ৮টির বেশি মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত সব আলামত জব্দ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ট্যাগ
জনপ্রিয়
দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ফেনীতে তাঁতী দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ফেনীতে তাঁতী দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ফরিদপুরে শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরের চুরি যাওয়া মালামাল সহ চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিপ্লব কুমার দাস,  ফরিদপুর থেকেঃ
ফরিদপুরে শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ছয় দিনের মাথায় মূল মূর্তিসহ চুরির মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে কুখ্যাত চোরচক্রের ৪ সদস্যকে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সাফল্যের তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের পেশাদার অপরাধী আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং চুরি করা স্বর্ণালংকার ক্রয় ও গলানোর অভিযোগে বোয়ালমারী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান।
যেভাবে ঘটেছিল চুরি
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে মন্দির তালাবদ্ধ করে যান সেবায়েত কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় তালা কেটে চুরি করা হয়েছে প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি (যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা), গায়ের ৫ ভরি স্বর্ণ (মূল্য প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা), ৩০ ভরি রৌপ্যালংকার ও পিতলের প্রতিমা। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তে নামে পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল।
ক্লু-লেস মামলার রহস্য ভেদ
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শুরুতে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের মূর্তি, সাজেদা বেগমের রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে অলংকার ও পিতলের মূর্তি এবং জুয়েলারি দোকান থেকে অলংকার গলিয়ে তৈরি করা আট আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ ১০টি এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে ৮টির বেশি মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত সব আলামত জব্দ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।