সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদিগামী ৬১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার পর সৌদি আরবগামী এসব যাত্রীর যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি। এসব ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে পারেননি হাজারো যাত্রী। পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যেসব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল
বেবিচক সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, বাতিল হওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬টি, সালাম এয়ারের ৩টি, এমিরেটসের ৯টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনিশ্চয়তায় সৌদিগামী যাত্রীরা
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কবে সৌদি আরবে যেতে পারবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন যাত্রীরা। কবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় অনেকে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
যাত্রীদের কেউ কেউ বিমানবন্দরে রাত কাটাচ্ছেন, কেউ হোটেলে অবস্থান করছেন, আবার অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার কারণে তাদের ভোগান্তি বাড়ছে।
আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা শ্রমিকদের
সৌদি আরবগামী যাত্রীদের বড় একটি অংশ শ্রমিক। বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এসব মানুষের অনেকের কাছেই ঢাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ফলে ফ্লাইট বাতিলের কারণে থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ জোগানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন যাত্রীরা। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের অর্থ ফেরত দেবে কি না, কিংবা বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সৌদিগামী যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি তাদের আর্থিক সংকটও আরও বাড়তে পারে।
























