পুলিশ সদস্যদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু বিভাগীয় শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রচলিত আইনে মামলা ও বিচারও হবে।
শনিবার বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশে ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ ব্যবস্থা চালু থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা কোনো অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধন করে নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ এখন ‘রাজা-বাদশাহ’ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি হলেও কেউ যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ জন্য পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।
পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রো, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও এর শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানোর কথা জানান তিনি। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের বড় একটি অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।
পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশের সবচেয়ে বেশি। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশ সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে।”
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের আহ্বান জানান।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা মোকাবিলায় পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


























