ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা। ঘর সাজানোর উপকরণেও যুক্ত হচ্ছে নানা ধরনের আধুনিক সামগ্রী। তবে এসবের ভিড়েও মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্রের আবেদন যেন একটুও কমেনি। বরং নান্দনিক নকশা ও নিপুণ কারুকাজে তৈরি মাটির পণ্য এখনো আকৃষ্ট করছে সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষকে।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়িতে রয়েছে মাটির তৈরি বিভিন্ন পণ্যের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। এখানকার দোকানগুলোতে সাজানো রয়েছে মাটির তৈরি নানা ধরনের শোপিস, ফুলদানি, পুতুল, ঘর সাজানোর সামগ্রীসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন তৈজসপত্র। বাহারি নকশা, বৈচিত্র্যময় আকৃতি ও দৃষ্টিনন্দন কারুকাজে তৈরি এসব পণ্য সহজেই নজর কাড়ে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের।
স্থানীয়ভাবে প্রায় চার দশকের ঐতিহ্য বহন করছে এই মৃৎশিল্প। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটিকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রূপ দিচ্ছেন কারুশিল্পীরা। সাধারণ মাটি থেকে তৈরি হচ্ছে নান্দনিক সব শিল্পকর্ম। এসব পণ্যের মধ্যে যেমন রয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতিফলন, তেমনি রয়েছে আধুনিক রুচি ও ঘর সাজানোর উপযোগী নান্দনিকতার সমন্বয়।
মল্লিকবাড়ির এসব দোকানে পাওয়া যায় ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির মাটির সামগ্রী। ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে শোপিস, টেবিল সাজানোর উপকরণ কিংবা উপহার দেওয়ার জন্যও রয়েছে নানা ধরনের পণ্য। মাটির স্বাভাবিক রং ও কারুকাজের কারণে এসব সামগ্রীতে ফুটে ওঠে এক ধরনের স্বতন্ত্র সৌন্দর্য।
শহুরে জীবনের যান্ত্রিক ব্যস্ততা থেকে একটু সময় বের করে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকশিল্পের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে মল্লিকবাড়ির এই মৃৎশিল্পের দোকানগুলো হতে পারে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। বিশেষ করে যারা দেশীয় সংস্কৃতি, মাটির তৈরি পণ্য এবং ব্যতিক্রমী ঘর সাজানোর সামগ্রী পছন্দ করেন, তাদের জন্য জায়গাটি হতে পারে ঘুরে দেখার মতো।
মাটির তৈরি এসব পণ্য শুধু ঘর সাজানোর উপকরণ নয়, এগুলো আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকশিল্পেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আধুনিক পণ্যের পাশাপাশি দেশীয় মৃৎশিল্পের ব্যবহার ও কদর বাড়লে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার পথ আরও সুগম হবে।
ঐতিহ্য আর নান্দনিকতার মেলবন্ধনে ভালুকার মল্লিকবাড়ির মৃৎশিল্প তাই স্থানীয় সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছেও হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণের এক বিশেষ কেন্দ্র।




















