স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: শফিকুল ইসলাম শফিক:
৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী গত ২৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, মৃত্যুর পর পিরোজপুরে তার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনে বাধা প্রদান করে জামায়াত-শিবিরের একটি চক্র। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় গাইবান্ধা শহরের পুরাতন জেলখানার সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গাইবান্ধা জেলা কমান্ড। কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয় গাইবান্ধা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ।
মানববন্ধন শেষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাইফুল আলম সাজা। সভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ।
সভার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম সাজা বলেন, “একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক, অমানবিক ও ফৌজদারি অপরাধ। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জড়িত জামায়াত-শিবির চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
জেলা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলেন, “আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিনি নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের সন্তান। একজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের সন্তান প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেন একজন ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানিত হতে হবে? এ লজ্জা আমাদের জাতির।”
পলাশবাড়ী উপজেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহমান বলেন, “কেন তার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনারে বাধা দেওয়া হবে? এ কষ্ট বুকে ধারণ করার মতো নয়।”
ফুলছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম রাজা বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমাদের আস্থার শেষ ঠিকানা। আমরা দাবি জানাই, আপনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দিকে খেয়াল রাখবেন।”
সদর উপজেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খোকা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
সভায় বক্তারা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান মানে পুরো জাতিকে অপমান করা।




















