রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের বেশির ভাগ মানুষের পেশা কৃষি। কৃষির ওপর নির্ভর করে চলে এ দেশের অর্থনীতি। এক সময় গরু দিয়ে এ দেশের জমিজমা হাল চাষ করা হত।
কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে চিত্র। দিন দিন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে দেশ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বাঙালির চির চেনা সেই গরুর কাঁধে জোয়াল লাঙল দিয়ে জমি চাষের চিত্র। যান্ত্রিক ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করায় গরুর হাল এখন বিলুপ্ত প্রায়।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলাতেও এক সময় গরু লাঙল দিয়ে জমি চাষ আর মই দেওয়ার দৃশ্য সবার নজর কাড়ত।
বাড়ি থেকে বের হয়ে মাঠের দিকে নজর পড়তেই দেখা যেতো কৃষক বাঁশের ফালা দিয়ে তৈরি করা ধারালো লাঙল কাঠের হাতল আর জোয়ালের মাধ্যমে গরুর কাঁধে বেধে দিয়ে জমি চাষ করছে। সে সময় গরু লাঙল ছাড়া জমি চাষ করার কথা চিন্তাই করা যেত না। অথচ গরু লাঙলের সঙ্গে কৃষকের সেই মিতালীর দৃশ্য এখন বিরল। যুগের পরিবর্তন আর বিজ্ঞানের ক্রমাগত উন্নতির কারণে গরু লাঙলের স্থান দখল করে নিয়েছে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি।
এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের কালনা গ্রামের প্রবীণ কৃষক মো. চান্দু ভুঁইয়া জানায়, গরুর লাঙ্গল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ শতাংশ জমি চাষ করা সম্ভব। আধুনিক যন্ত্রপাতির থেকে গরুর লাঙলের চাষ গভীর হওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। এ পদ্ধতির চাষ সার ও কীটনাশকের জন্য সাশ্রয় হয়। কষ্ট হলেও আমাদের গরু দিয়ে হাল চাষ করতে খুব ভালো লাগত। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির আবির্ভাবের কারণে এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। আগামী প্রজন্ম হয়তো বই পড়ে জানতে পারবে এক সময় গ্রাম অঞ্চলে গরু দিয়ে হাল চাষের বিষয়টি।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, গরু দিয়ে চাষ করলে মাটির গভীর অংশ আলগা হয়, গরুর পায়ের চাপে কাদা তৈরি হয় এবং গোবর জমির উর্বরতা বাড়ায়। এছাড়া গরু এবং লাঙল জমির আইলের পাশের জায়গাটাও ভালোভাবে চাষ করা যায়। যা ট্রাক্টর দিয়ে সম্ভব নয়। জমির কোনাগুলো ফাঁকা থাকলেও গরুর লাঙল দিয়ে চাষ করলে তা পূরণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, যদিও যান্ত্রিক চাষে উৎপাদন দ্রুত হয়, তবু প্রাকৃতিক পদ্ধতির উপকারিতা উপেক্ষা করা যায় না।





















