পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ফলাফলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার কলেজগুলোতে চরম বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার মূল ধারার চারটি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একমাত্র নারী শিক্ষা খ্যাত কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজই এককভাবে ৩টি জিপিএ-৫ অর্জন করে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এই ফলাফল নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কলেজ পর্যায়ের ফলাফল: ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার চারটি কলেজের মধ্যে পাসের হারে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।
এখান থেকে ২০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৫০.৯৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন।
উপজেলার প্রধান বিদ্যাপীঠ তেঁতুলিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৫১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ জন এবং পাসের হার ২৩.৭২ শতাংশ। মাঝিপাড়া মহিলা কলেজ থেকে ৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৮ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৩০.৪৩ শতাংশ। তবে এই কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল করেছে ভজনপুর ডিগ্রি কলেজ। এখান থেকে ১৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কৃতকার্য হয়েছেন মাত্র ২৪ জন। পাসের হার মাত্র ১৩.৫৬ শতাংশ। এছাড়া আলহাজ্ব তমিজউদ্দীন কলেজ থেকে ২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।
মাদরাসা (আলিম) পর্যায়ের ফলাফলে আলিম পরীক্ষায় মাদরাসাগুলো কলেজগুলোর তুলনায় কিছুটা ভালো পাসের হার অর্জন করেছে। কালান্দিগঞ্জ ফাজিল মাদরাসা থেকে ৩৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২২ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৫৭.৮৯%)। বেগম ফখরুন্নেসা ফাজিল মাদরাসা থেকে ২২
জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১ জন (পাসের হার ৫০%)। তবে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। মাদরাসা পর্যায়ে মোট ৬০ জন পরীক্ষার্থীর
মধ্যে ৩৩ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষায়ও পাসের হার আশাব্যঞ্জক নয়। শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক এন্ড টেকনিক্যাল কলেজ থেকে ৫৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন এবং ভজনপুর উচ্চ মাধ্যমিক এন্ড টেকনিক্যাল কলেজ থেকে ৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের এই ফলাফল নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত পাঠদানের অভাব এবং
শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতির কারণেই এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ও মানোন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ে আরও নিবিড় তদারকি প্রয়োজন বলে মনে
করছেন শিক্ষানুরাগীরা।
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এবারের পরীক্ষা কঠোর হওয়ায় ফলাফল খারাপ হয়েছে। আশা করছি আগামী বছরের পরীক্ষা ফলাফলের ভালোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।





















